অফার না পাওয়ায় আফসোস জয়ার!
বিনোদন ডেস্ক :
জয়াপরিচালক দীপ চৌধুরীর ছবি ‘আলিফা’ মুক্তি পেল গতকাল। ছোট্ট মেয়েটিরই নাম আলিফা। তার মা ফাতিমার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া শীল ঘোষ। এ ছবিতে কাজ করতে আগ্রহী হলেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে জয়া বললেন, সহজ করে একটা বড় বিষয়কে তুলে ধরেছেন পরিচালক। খুব স্পর্শকাতর এ ছবি।
গৌহাটির কাছেই একটি পাহাড়ে এসে বসবাস করেন কিছু মানুষ। গ্রাম থেকে জীবিকার সন্ধানে শহরে এসে ঠাঁই না পেয়ে পাহাড় কেটেই তাঁদের বাসস্থান নির্মাণ। আসতে যেতে ২ ঘণ্টা লাগে তাদের। শহরে রাজমিস্ত্রীর কাজ করা এই মানুষগুলোর দৈনন্দিন সংঘর্ষই ‘আলিফা’র কাঠামো।
এদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল জয়া, গৌহাটির মেয়ে হওয়ার সুবাদে। শুটিংও হয়েছে সেখানেই। জয়ার বিপরীতে আছেন বাহারুল ইসলাম। নাট্যকর্মী বাহারুল ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামাতে জয়ার সিনিয়র ছিলেন। যাকে নিজের ‘থিয়েটার গুরু’ হিসেবেই মান্য করেন জয়া।
তারই স্ত্রী’র ভূমিকায় অভিনয় করার অভিজ্ঞতা অনন্য। গুরু-শিষ্যের এই যুগলবন্দীও এ ছবির অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়াও ছবির গোটা টিম নিয়েই খুব উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী। খাঁটি অসমীয়া প্রযোজনা সংস্থার সব কলাকুশলীর অক্লান্ত পরিশ্রমেই তৈরি হয়েছে ‘আলিফা’।
সিনেম্যাটোগ্রাফি থেকে পোশাক, মেকআপ, সহ-অভিনেতা, সব নিয়েই প্রশংসায় পঞ্চমুখ জয়া শীল ঘোষ। ময়মনসিংহের ডায়ালেক্টে সংলাপ বলার আগে সোহাগ সেনের কাছে ওয়র্কশপের অভিজ্ঞতাও তার ঝুলিতে আর এক সম্পদ।
পাশাপাশি এও জানাতে ভুললেন না, ‘বিক্রম ঘোষ, মাই হাজব্যান্ড, অসাধারণ মিউজিক করেছেন, যা ছবিকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে। বললেন, আমি ওর বৌ বলে বলছি না কিন্তু আমার মনে হয় এটা ওর অন্যতম সেরা কাজ।
‘আলিফা’ আন্তর্জাতিক মানের, এ ছবি কতটা ব্যবসা করবে জানা নেই, কিন্তু যারা দেখবেন, তারা প্রত্যেকেই ছবিটার সঙ্গে সংযোগ অনুভব করবেন, এমনটাই মনে করেন জয়া। কম ছবিতে দেখার বিষয়ে জয়া বলেন, ভালো ছবির অফার পাচ্ছিনা। আফসোসের সুর জয়ার গলায়।
তিনি বলেন, আলিফার পরও ৫/৬ টা চিত্রনাট্য হাতে পেয়েছি, কিন্তু কোনোটাই আমাকে উত্তেজিত করেনি। কাজেই অপছন্দের কাজ করার থেকে না করাই ভালো। এ অবস্থানে আমি আগেও ছিলাম, মুম্বাইয়ে থাকাকালীনও। আমি দক্ষিণের প্রভুদেবা, বিক্রম বা শিবরাজের সঙ্গেও কাজ করেছি। বাণিজ্যিক ছবির বিরোধী আমি নই, কিন্তু আমার কাজের জায়গাটা তো পছন্দসই হতে হবে।
জয়া বলেন, আমার দুই সন্তান আমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি। বিক্রমের সৃষ্টিশীলতা যেন সংসারের চাপে বাধা না পায়, সেটা দেখাও আমার প্রায়োরিটি। একটু স্যাক্রিফাইস আমাকে করতে হচ্ছে স্বীকার করি, কিন্তু সব মিলিয়ে আমি খুশি, পরিপূর্ণ।




