211972

যে ৬ কারণে বিমানের আসন খালি থাকে


যাত্রীরা টিকিট না পেলেও সিট খালি অবস্থায় প্রায়ই উড়াল দেয় দেশের জাতীয় পতাকাবাহী একমাত্র এয়ারক্রাফট সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন উড়োজাহাজ। পক্ষান্তরে বিমানের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

যদিও সংস্থাটির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ অনেক পুরনো। এর কারণ হিসেবে ছয়টি যুক্তি দিয়েছে বিমান। যার মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে রাস্তার যানজটকে।

বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, রাস্তায় যানজটের কারণে যাত্রীরা সঠিক সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারেন না। তাই আসন খালি অবস্থাতেই অনেক সময় উড়োজাহাজ উড়াল দেয়। তবে তাদের এসব যুক্তি হাস্যকর ও খোঁড়া বলে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিমানের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হলে বুধবারের বৈঠকে তারা ছয়টি কারণ উল্লেখ করে। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, আসন খালি থাকার পরেও সাধারণ মানুষ টিকিট পান না- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সির যোগসাজশে বিমানের আসন খালি থাকলেও টিকিট বিক্রি করা হয় না। এজন্য অন্য কোম্পানির টিকিট বিক্রি বাড়ে।

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রথমত নির্দিষ্ট রুটে ভ্রমণের জন্য অনেক সময় যাত্রীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদেশ থেকেও ব্যক্তিগত আয়োজনে বিমান বা অন্য কোনো এয়ারলাইন্সে ঢাকায় আসেন। সে ক্ষেত্রে অনেক সময় কানেক্টিং ফ্লাইটের সঙ্গে যাত্রীর আগমনী ফ্লাইট দেরিতে পৌঁছার কারণে সমস্যা দেখা দেয়।

দ্বিতীয়ত, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নির্দিষ্ট ফ্লাইটের যাত্রীরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসেন। এতে পরিবহনগত সমস্যা, রাস্তায় যানজট ও আবহাওয়াজনিত কারণেও তারা সময়মতো বিমানবন্দরে উপস্থিত হতে পারেন না।

তৃতীয়ত, কোনো কোনো সময় শেষ মুহূর্ত টেকনিক্যাল অথবা আবহাওয়াজনিত সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট উড়োজাহাজ পরিবর্তন করে অপেক্ষাকৃত অধিক আসনের বিমান পরিচালনা করতে হয়। এক্ষেত্রেও আসন খালি রেখে বিমান পরিচালনা করা হয়।

চতুর্থত, যাত্রীরা আগে টিকিট কনফার্ম করেও শেষ মুহূর্তে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে মত পরিবর্তন, ট্রাভেল ডকুমেন্টে ত্রুটি থাকার কারণে ইমিগ্রেশন শাখা থেকে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয় না। তখন সংশ্নিষ্ট যাত্রীকে রেখেই উড়োজাহাজ ছাড়তে হয়।

পঞ্চমত, অনেক সময় ভিসা কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই যাত্রীরা টিকিট কনফার্ম করে রাখেন। শেষ মুহূর্তে ভিসা না পাওয়ায় তারা যাত্রা বাতিল করেন।

এছাড়া ষষ্ঠ কারণ হিসেবে জানানো হয়, যাত্রী নিজে কিংবা পরিবারের অন্য কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারিক দায়িত্বের কারণে যাত্রা নিশ্চিত থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হন বা নির্দিষ্ট দিনে বিমানবন্দরে উপস্থিত হতে পারেন না।

বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিমানের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে এসব যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। কমিটির সভাপতি ফারুক খানের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে আরও অংশ নেন বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহ্‌জাহান কামাল, মো. আলী আশরাফ, মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, কামরুল আশরাফ খান এবং সাবিহা নাহার।

সূত্র:বিডি২৪লাইভ

ad

পাঠকের মতামত