211981

হবু স্ত্রীর সাথে একান্তে স্বাক্ষাৎ করতে গিয়ে প্রেমিক নিহত


ঝালকাঠি-বরিশাল সীমান্তবর্তী রায়পাশা ইউনিয়নের পপুলার এলাকায় মামার বাড়িতে হবু স্ত্রী শারমিনকে নিয়ে একান্তে স্বাক্ষাৎ করতে গিয়ে বিষক্রীয়ায় রহস্যজনক ভাবে নিহত গার্মেন্টস কর্মী আসলাম কবিরাজের (২২) দাফন গত ২৮ মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় সম্পন্ন হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৭ টায় হবু স্ত্রী তথা প্রেমিকা শারমিনের পরিবারের লোকজন বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার পর নিহতের পরিবার ময়না তদন্ত শেষে বুধবার দুপুরে তার লাশ বাড়ীতে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে বুধবার সন্ধ্যায় দাফন শেষে তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে আসলামকে তার হবু স্ত্রী তথা প্রেমিকা শারমিন ও তার পরিবারের লোকজন পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হলেও ঘটনাস্থল রায়পাশা ইউপির পপুলার গ্রামে তার মামতো ভাই আব্দুল্লাহ খান ঘরে তালা ঝুলিয়ে এবং প্রেমিকা শারমিনসহ পরিবারের লোকজন দায় এড়াতে আত্মগোপন করেছে।

বরিশালের মতাসার গ্রামের জামাল কবিরাজের ছেলে নিহত আসলামের পরিবার জানায়, ঢাকায় একটি গার্মেন্টস কোম্পানীতে চাকুরিরত আসলাম কবিরাজের সাথে আগামী ৬ই এপ্রিল পারিবারিক ভাবে প্রেমিকা শারমিন আক্তারের (১৯) সাথে বিয়ের দিন-তারিখ চুরান্ত হয়। গত ২৬ মার্চ সে গার্মেন্টস থেকে ছুটি নিয়ে ঢাকা থেকে নিজ বাড়ি বরিশাল বিসিসি’র মতাসার গ্রামে আসে। পরের দিন ২৭ মার্চ বিকেলে মুঠোফোনে হবু স্ত্রী তথা প্রেমিকা শারমিনের সাথে কথা বলে দেখা করার জন্য পার্শবর্তী বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশার পপুলার এলাকার মৃত সেকান্দার আলী খান’র ছেলে মামতো ভাই আব্দুল্লাহ খান’র বাড়িতে ডেকে আনে।

সেখানে মামতো ভাইর বাড়ীতে প্রেমিকা শারমিনের সম্মুখেই আসলাম কবিরাজের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। নিহত আসলামের পরিবার আরো জানায়, গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় শারমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের পিতা জামাল কবিরাজের ফোন দিয়ে জানানো হয় যে, আসলাম ফরাজী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। তার মৃতদেহ শেরেবাংলা মেডিকেল হাসপাতালে আপনারা তার লাশ নিতে আসেন।

তবে কি কারনে বা কিভাবে বিষপান করলো বা কেনো আত্মহত্যা করলো তার কিছুই জানা যায়নি। এরপর মামতো ভাই আব্দুল্লাহ খান ও হবু স্ত্রী শারমিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেনি এবং তাদের বাড়ীতে গিয়েও খুজে না পাওয়ায় ঠিক কি হয়েছিলো তাও জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, আপাতত ইউডি মামলা গৃহিত হয়েছে তবে ময়না তদন্ত রিপোটের পর এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা বোঝা যাবে। এদিকে ২৮ মার্চ ময়না তদন্ত শেষে আসলামের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে আছরবাদ মতাসার আল আকসা কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়। সেখানে ছেলেহারা পিতা জামাল কবিরাজ ও নিহতের এক বোন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে আসলাম ফরাজীর নিহতের ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের কঠোর বিচার দাবী করেন।

ad

পাঠকের মতামত