ভয়ঙ্কর স্পটে শাকিব খানের শুটিং
![]()
![]()
![]()
![]()
কাজ চলছে শাকিব খান অভিনীত ‘সুপার হিরো’ছবির শুটিং। সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে শুটিং শেষ করে ঢাকায় ফিরেছে শুটিং টিম। এদিকে ঢাকায় পৌঁছেই ছবিটির পরিচালক আশিকুর রহমান জানালেন ভয়ঙ্কর স্পটে শুটিং করেছেন তিনি। ফেসবুকে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ঢাকা লাইভ.নেটের পাঠকদের জন্য পরিচালকের স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-
জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ শুটিং অভিজ্ঞতা শেষ করে বাসায় ফিরলাম: আশিকুর রহমান
গত চার দিন আমি ও আমার প্রায় ১৫০ জন টীম মেম্বার চিটাগং এর পারকি চরে সুপার হিরোর শেষ দৃশ্যের শুটিং করছিলাম। শুটিং লোকেশন হিসাবে অসাধারণ কিন্তু আমাদের রেকি টীমের কিছু ভুল ইনফরমেশনের কারণে, আমরা প্রায় ১৫০ জন ক্রু, টেকনিশিয়ান ও আর্টিস্ট ভয়ঙ্কর এক লোকেশনে শুটিং এর জন্য চলে যাই। এত বড় ইউনিট ও টীম ব্যাক করার ও কোন সুযোগ ছিল না।
এভাবেই প্রতিদিন উঠা নামা করতে হয়ত
এর আগে চলন্ত ট্রেন, ইস্পাতের গনগনে আগুন, গভীর সমুদ্র, ট্যাঙ্ক, যুদ্ধ জাহাজ সহ অসংখ্য বিপদজনক জায়গায়, শুটিং করেছি। কিন্তু সত্যিকারের মৃত্যু ভয়টা এই লোকেশনে পাই। লোকেশনে উঠার দুইটি উপায়। কাঠ আর দড়ির মই বেয়ে ৬৫ ফুট উচ্চতায় উঠা অথবা মোটর ক্রেনের মাধ্যমে ৮৫ ফুট উচ্চতায় উঠা। দুইটাই অনেক বিপদজনক এবং কোনমতে সিস্টেম ফেইল করলে নিশ্চিত মৃত্যু। আমার ভয়টা আরও বেশী ছিল, কারণ শুধু মাত্র আমার নির্দেশে ১৫০ জন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যেক দিন জাহাজের উপড়ে উঠেছে ও নেমেছে। এই দায়িত্ব যে কি পরিমাণ মানুষিক চাপ সেটা বুঝানো অসম্ভব। এই সব ছাড়াও জাহাজের ডেকটা অনেক পুরাতন হওয়ায়, ক্ষয় হয়ে যাওয়া লোহা চারপাশে পড়েছিল। সামান্য কাঁটা ছেঁড়ার ফলে ভয়ঙ্কর টিটেনাস হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ %। আমি এখনও ভয়ঙ্কর ট্রমার মধ্যে আছি। এতো কষ্ট করার কারণ শুধু মাত্র ভাল একটি চলচ্চিত্র বানানো। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সবাই সুস্থ ভাবে ঢাকায় ফেরত এসেছি। যদিও প্রত্যেকেরই ছোট খাটো অসংখ্য কাঁটা ছেঁড়া, ইনজুরি ও ভয়ঙ্কর এক সফরের অভিজ্ঞতা মনের ভিতরে আছে।
ভবিষ্যতে এতো ঝুঁকি নিয়ে আর কখনও কাজ করবো না। ধন্যবাদ আমার টীমকে যারা আমার উপর অগাধ বিশ্বাস নিয়ে এই ভয়ঙ্কর যাত্রায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আমি গর্বিত আপনাদের সাথে কাজ করতে পেরে। সুপারহিরোর প্রত্যেকটা ক্রু, আর্টিস্ট ও টেকনিশিয়ান সত্যিকারের সুপারহিরো।’




