211480

মৃত্যুর ৫১ দিন পর লাশ উত্তোলন

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করতে দাফনের ৫১ দিন পর কবর থেকে সরোয়ার আহমেদ দোলন (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের পশ্চিম খলাপাড়া গ্রাম থেকে নিহতের ওই মরদেহ উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ হোসেন।

নিহত সরোয়ার আহমেদ দোলন উপজেলার কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ঘোনাপাড়া মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের পশ্চিম খলাপাড়া গ্রামে তার নানার বাড়ি। তিনি রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় ইলেকট্রিক ঠিকাদারের ব্যবসা করতেন।

মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী মুন্নী আক্তার জানান, ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় তার শশুরের ৫ তলা একটি ভবন ছিল। ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে তা ভাগাভাগী হয়। কিন্তু যৌথ মালিকানায় একটি ফ্লাট ছিল। আর সেই ফ্লাটটি অন্য ভাই-বোন দখল নিতে বিভিন্নভাবে পায়তারা করতো। এ নিয়ে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারী সবাই সমঝোতায় বসে। এ সময় দোলনের সাথে অন্য ভাই-বোনের কথা কাটাকাটি হয়। তারা তার স্বামীকে মারধর করার এক পর্যায় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে পাশের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো জানান, স্বামীর ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজনকে বলে দোলন হার্ড এটাকে মারা গেছে। পরে তড়িগরি করে কোন প্রকার ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিজ গ্রাম ঘোনাপাড়ায় জানাজা ছাড়া ও আত্মীয় স্বজনকে না দেখিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয় পশ্চিম খলাপাড়া নানা বাড়ীতে। ঘটনার ১০দিন পর ১৫ ফেব্রুয়ারী স্বামীকে হত্যার অভিযোগ এনে নিজে বাদী হয়ে ভাই-বোনদের আসামী করে খিলগাঁও থানায় একটি মামলা (নং ৩৯) দায়ের করেন।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খিলগাঁও থানার এসআই মো. শাহ আলমের বরাত দিয়ে কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাল উদ্দিন জানান, মামলার বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ও তদন্তের স্বার্থে সঠিক কারণ নির্ণয় করতে মরদেহ উত্তোলনের জন্য পুলিশ আদালতের স্মরণাপন্ন হয়। এরপর পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের জন্য আদালত পুলিশকে নির্দেশ দেন। ওই আদেশ পেয়ে গাজীপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ হোসেনের উপস্থিতিতে বুধবার বিকেলে কবর থেকে দোলনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ad

পাঠকের মতামত