210799

সিএনএনের বিশেষ প্রতিবেদন: ১৪ বছরের ফেসবুক ডাটা ঘেঁটে আমি যা পেলাম…

নিউজ ডেস্ক।।

সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুককে নিয়ে চলছে বহু আলোচনা সমালচনা। ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকাকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ফেসবুকের বড় ধরনের দরপতনও ঘটেছে। ফেসবুক থেকে নেওয়া ৫ কোটিরও বেশি মানুষের তথ্য ব্যবহার করেই মার্কিন নির্বাচনসহ বিশ্বের অন্যতম কিছু রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপে বিরাট অবদান রেখেছিল এই মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি।

এতকিছুর পর বিশ্বে শুরু হয়েছে ‘ডিলিট মাই ফেসবুক’ ট্রেন্ড যেখানে অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের ফেসবুক মুছে ফেলছে। এদের মধ্যে রয়েছেন টেসলা এবং স্পেস এক্সের মালিক এবং প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক এবং ওয়াটসঅ্যাপের প্রতিষ্ঠাতাও।

এই ঘটনার পর সিএনএনের একটি সাক্ষাৎকারে ক্ষমাও চেয়েছেন ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ।

তবে সিএনএনের আরেক অনুসন্ধানে আরেক বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে। সিএনএনের প্রযুক্তিবিষয়ক সাংবাদিক সারা অ্যাশলি ও’ব্রায়ান সম্প্রতি নতুনভাবে এই বিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছেন। তার এই চেষ্টাতে তিনি তার ১৪ বছরের ফেসবুক ব্যবহারের সকল তথ্য ডাউনলোড দিয়েছিলেন এবং এটিকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন। তার প্রতিবেদনটি অনুবাদ করে তুলে ধরা হচ্ছে –

এই সামাজিক গণমাধ্যমের সকল ডাটা ডাউনলোড করার পর আমি একটি বিশাল তথ্যভাণ্ডার পেয়েছি যা গত ১৪ বছর ধরে আমার তথ্য সংগ্রহ করে চলছিল। আমি ২০০৪ সাল থেকে ফেসবুক ব্যবহার করে আসছি, এবং অবাক করার মত করেই এটি আমার সকল তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এটিতে আমার মৃত নানীর ফোন নাম্বার ছিল যার কিনা কখনই কোন ফেসবুক একাউন্ট অথবা ইমেইল ছিল না! এটিতে আমার সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে সকল কথোপকথন সংরক্ষিত ছিল, যার সঙ্গে আমি ভেবেছিলাম সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেছি। এই তথ্যভাণ্ডারে আমাকে অন্যরা কতবার ‘পোক’ করেছে তাও উল্লেখ ছিল। আমি এটাও দেখতে পাই যে কেট স্পেড নিউইয়র্ক এবং মেটলাইফের মত বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে আমার তথ্য ছিল।

আমার নিজের তথ্যের দিকে ফিরে চাওয়াটি শুধুমাত্র যে অস্বস্তিজনক ছিল তা নয়, এটি আমার কষ্টদায়ক অনেক স্মৃতি মনে করে দিয়েছে।

১৫ জিবি বড় ব্যক্তিগত তথ্যে ভরা এই তথ্যভাণ্ডারে আমার ‘ফ্রেন্ডশিপ’ এ থাকা সকল ব্যক্তিদেরকেও উল্লেখ করা আছে। এখানে দেখা যায় কবে আমি কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছি। এতে রয়েছে এমন কিছু মানুষের তথ্য যাদেরকে আমি নিজের জীবন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছি।

এতে সংরক্ষিত ছিল আমার এতবছরের সকল মেসেজ, যার মধ্যে অনেকগুলোই আমি মুছে ফেলেছিলাম।

এই তথ্যভাণ্ডারের ‘কন্ট্যাক্ট ইনফো’ অংশে হাজার হাজার মানুষের কন্ট্যাক্ট রাখা ছিল, যাদের মধ্যে অনেকেরই সঙ্গে আমার এখন আর কোন সম্পর্ক নেই। এত তথ্য দেখে আমার নিজের মাথাও ঘুরে গিয়েছিল। সূত্র : সিএনএন

ad

পাঠকের মতামত