210329

কি দোষ ছিল হাসনা ও তার নিষ্পাপ সন্তানদের!

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার উপজেলার কুমারী গ্রামে গত বুধবার রাতে রহস্যজনকভাবে মারা যায় গৃহবধু হাসনা বেগম (৩২)। মৃত হাসনা বেগম উপজেলার কুমারী গ্রামের বাবলুর স্ত্রী। এ ঘটনার শুক্রবার (২৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে সন্দেহজনকভাবে স্বামী বাবলুকে আটক করে পুলিশ। রাতেই পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী বাবলু পুলিশের নিকট স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে অকপটে।

আটককৃত বাবলু কুমারী মিলপাড়ার বাদেমাজুর আলী হোসেনের ছেলে। নিহত গৃহবধূ চাঁদপুর জেলার দক্ষিণ রঘুনাথপুরের ইদ্রীস ঢালীর মেয়ে। হাসনা বেগম ৩ সন্তানের জননী।

ঘাতক বাবলু জানায়, জমি নিয়ে মামা ও খালা-খালুর সাথে বিরোধের জের ধরে তাদেরকে ফাঁসাতে সে নিজ স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। রাতে স্বামী-স্ত্রী ঘুমানোর সময় দু’হাতে গলাটিপে পৈশাচিকভাবে হত্যা করে।

জানা গেছে, কুমারী গ্রামের গৃহবধূ রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়ার ঘটনাকে গ্রামবাসীর সাথে পুলিশও স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। এ মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী বাবলুর সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রথম থেকেই জোর সন্দেহ ছিল পুলিশের। বিশেষ করে বাবলুর বড় মেয়ে আনেসা খাতুনের অসংলগ্ন কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ ঘণীভূত হয়। পুলিশ আনেসা খাতুনকে বার বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে সব।

নিহতের মেয়ে আনেসা খাতুন জানায়, ঘটনার ২ দিন আগে তার বাবা বাবলু ঢাকা থেকে বাড়ি চলে এসে গোপনে ঘরের খাটের নীচে অবস্থান করত। একদিন এভাবে কাটিয়ে পরের দিন প্রকাশ্যে বের হয়। ঘটনার রাতে আনেসার মা হাসনা বেগম ও বাপ বাবলু একসাথে রাত্রিযাপন করে। তার আগে বাবলু আবার ঢাকায় যাবে সেজন্য সকালের খাবার রুটি ও আলুভাজি তৈরী করে রাখে হাসনা খাতুন। রাত বেশ খানিকটা গভীর হলে মা-বাপের খাট থেকে মায়ের গোঙানির শব্দ শুনতে পায় সে কিন্তু লজ্জায় মা-বাবার রুমের খাটের কাছে যেতে পারেনি। এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়লে রাত ২টার দিকে বাবলু আনেসা খাতুনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে জানায় সে ঢাকায় যাচ্ছে এবং সে (বাবলু) যে বাড়ি এসেছিল, সে কথা কাউকে না জানায়। এমনকি পুলিশকেও নয় বলে সতর্ক করে দেয়। আনেসা খাতুন সে সময় মাকে ডাকতে চাইলে বাবা বাবলু নিষেধ করে বলে তোর মা ঘুমাচ্ছে। ডাকার দরকার নেই। বাবলু বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে আনেসা খাতুন তার মাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতে গেলে দেখে সব শেষ। বেডে মৃত লাশ পড়ে আছে।

কিশোরী আনেসা খাতুনের মুখ থেকে এ ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ ঘাতক স্বামী বাবলুকে আটক করতে ফাঁদ পাতে। পুলিশের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে আটক হয় বাবলু।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গিয়াস উদ্দীন জানান, বাবলুকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে মুখ খুলতে শুরু করে। সে জানায়, রাতে স্বামী-স্ত্রীর মিলনের এক পর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে সে স্ত্রীর (হাসনা বেগম) গলা দুহাতে চেপে ধরে। কিছু বুঝে উঠার আগেই তার (হাসনা বেগমের) মৃত্যু হয়। পূর্বপরিকল্পিতভাবেই গলাটিপে স্ত্রীকে হত্যা করেছে ঘাতক বাবলু। এ হত্যাকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করে পুলিশের নিকট দেওয়া বাবলুর এ স্বীকারোক্তির পর রাতে চাঁদপুর থেকে আলমডাঙ্গা থানায় উপস্থিত হন নিহত গৃহবধুর ভাই খোরশেদ ঢালী। রাতেই তিনি বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যামামলা দায়েরের করেছেন।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য: গত বৃহস্পতিবার ভোরে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ হাসনা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে তা ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাশ বাড়িতে পৌছুলে রাত ১০টায় গ্রামের গোরস্তানে দাফন করা হয়।

ad

পাঠকের মতামত