209804

প্রধানমন্ত্রীর মখমলের চেয়ারের চারপায়ে উইপোকা ধরেছে: রিজভী

অন্যায় আর পাপের সাগরে ডুবে থেকে চিরদিন রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা যায় না-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে এমন প্রশ্ন করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আপনার অবৈধ ক্ষমতার মখমলের চেয়ারের চারপায়ে উইপোকা ধরেছে সেটি আপনি টের পাচ্ছেন না। পতন কিন্তু বলে কয়ে আসে না। উত্তরের কালবৈশাখী ঝড়ের মতো কখন সেই গদি উল্টে যাবে তা অনুধাবন করতে পারছেন না। ’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার রহমানের নামফলক মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার। অন্যের অর্জনকে যারা আত্মসাৎ করে তারাই হচ্ছে ডাকাত, তারাই হচ্ছে দখলদার। আর আওয়ামী লীগের স্বভাবধর্মই তো সন্ত্রাসের বাতাবরণে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা।

এ সময় বিএনপি’র পক্ষ থেকে সরকারের এ ধরণের উদ্যোগকে নিন্দা জানান জানান তিনি। একই সঙ্গে এ ধরণের প্রতিহিংসার উদ্যোগ থেকে সরকারকে সরে আসারও আহ্বান জানান রিজভী।

সরকারের আনন্দ র্যালি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‌‌সরকারের আজকের কর্মসূচি এক বিকৃত তামাশা। গোটা ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট অচল, জনজীবন সম্পূর্ণভাবে স্থবির ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ রাস্তায় আটকা পড়ে আছে। সরকার বলছে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কোনো কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না, অথচ উল্টো সরকারই জনদুর্ভোগ সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় খরচে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করছেন, নৌকায় ভোট চাইছেন। সরকারি কর্মচারীদের যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এটা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন এসব দেখেও না দেখার ভান করে সরকারকে সহযোগিতা করছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো প্রহসনের নির্বাচন করা সম্ভব হবে না ভেবেই বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এখন সবকিছুতেই বেপরোয়া হয়ে জনগণকে ভীত-সন্ত্রস্ত করছে। গভীর ও সুদূরপ্রসারী নীলনকশা বাস্তবায়নে দ্রুততার সঙ্গে পা ফেলছে তারা।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত করতে আপনারা বাধ্য হবেন। আপনাদের সকল চক্রান্ত ও নীলনকশা জনগণের সম্মিলিত শক্তির অভিযাত্রায় প্রতিহত করা হবে। খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কারাবন্দি করে রেখে বিএনপিবিহীন নির্বাচন করার খায়েশ কখনোই পূরণ করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে বেগম জিয়াকে ন্যায্য-বিচার-প্রক্রিয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বিচার বিভাগকে অবশ্যই সরকারের প্রভাবমুক্ত হতে হবে। আদালত নিরপেক্ষ না হলে দেশের নাগরিকরা নিজেদের ডিফেন্ড করতে পারবে না, তখন বিচারের বাণী সরকারের বাণীতে পরিণত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুইয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, শামসুল আলম তোফা, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়

ad

পাঠকের মতামত