209139

শেষ দেখা হবে না প্রিয়তমার সঙ্গে

নিউজ ডেস্ক।।

এখনো ডা. রেজাওয়ানুল হক শাওন জানেন না স্ত্রী শশী চলে গেছেন না ফেরার দেশে। সপ্তম বিবাহবার্ষিকীকে স্বরণীয় করতে নেপালে পাড়ি দিয়েছিলেন গত ১২ মার্চ। কিন্তু সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো লাশ হয়ে দেশে ফিরে এলেন তাহিরা তানভিন শশী। মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাড়ি মানিকগঞ্জে আনা হবে তাঁর মরদেহ। শহরের একটি কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

যাত্রা শুরু করেছিলেন এক সাথেই কিন্তু কোনোমতে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন শাওন। আর স্ত্রী শশীর প্রাণ কেরে নেয় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায়। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগ মুহূর্তেই হয়তো দেখা হয়েছিল শেষ দেখা। প্রিয়তমা স্ত্রী শশীকে শেষ যাত্রায় এক নজর দেখা তো দূরে থাক তাঁর মৃত্যুর সংবাদটিও এখনো জানানো হয়নি ডা. রেজাওয়ানুল হক শাওনকে। উন্নত চিকিৎসা আর চিকিৎসকদের নির্দেশেই পরিবারের পক্ষ থেকে স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদটি জানানো হয়নি। এ কারণেই প্রিয়তমাকে শেষ বারের মতো দেখা সৌভাগ্য মিলছে না শাওনের।

বিমানবাহিনীর কার্গো বিমানে করে সোমবার দেশে আনা হয়েছে ২৩ বাংলাদেশির মরদেহ। এর মধ্যে শশীর মরদেহ ছিল। আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলেও গ্রামের বাড়ি শশীর মরদেহ আনা হবে মঙ্গলবার।

গেলো ১৭ মার্চ ছিল শশী-শাওন দম্পতির সপ্তম বিবাহবার্ষিকী। দিনটিকে ঘিরে কতই না স্বপ্ন ছিল দুজনের। চলতি মাসের ১২ মার্চ নেপালের কাঠমন্ডু ত্রিভুবন বিমানবন্দরের ইউএস-বাংলা-২১১ ফ্লাইটটি অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। এ মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনাই তাঁদের জীবনের সব কিছু এলোমেলো করে দিলো। তবে এতে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ডা. রেজাওয়ানুল হক শাওনের জীবনে সত্যিই দিনটি অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাতে সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হবে শশীর মরদেহ। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে সরাসরি তাঁর নিজ বাড়ি মানিকগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় আনা হবে। সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের মাঠে বাদ জোহর অনষ্ঠিতক হবে তাঁর শেষ জানাজা। এরপরে স্থানীয় সেওতা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

শাওনের মামা আসাদুজ্জামান জানান, চিকিৎসকের নির্দেশেই শাওনকে এখন শশীর মৃত্যুর খবরটি দেওয়া হয়নি। বলা হয়েছে শশী অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য নেপাল থেকে সিঙ্গাপুরের নেওয়া হয়েছে শাওনকে।আর এখন শাওন অনেকটাই সুস্থ জানান আসাদুজ্জামান।

এদিকে শেষ বারের মতো এক নজর শশীকে দেখতে এরই মধ্যে তাঁর বাড়িতে চলে এসেছেন আত্মীয়-স্বজনেরা। কখন রাত শেষ হবে আর কখন শশীকে দেখতে পারব দু-চোখ ভরে। এমনটাই বলছিলেন শশীর স্কুল জীবনের এক সহপাঠী।

বাবা-মার একমাত্র সন্তান ছিলেন তাহিরা তানভিন শশী। এত অল্প সময়ে না ফেরার দেশে চলে যাবেন এমনটা কখনো ভাবেনি কেউ। মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে গেলো মানিকগঞ্জের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।

ad

পাঠকের মতামত