209080

দুই মেয়ের সুখের কথা ভেবে বৃদ্ধ বয়সে বিমান ভ্রমণ কিন্তু…

নাজনীন আক্তার কনক ও নার্গিস আক্তার কাকন দুই বোন। সাত দিনের অপেক্ষার পর দুজন আজ সকাল থেকে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছে। অপেক্ষা করছে তাদের বাবা-মায়ের কখন দেখা পাবে তাদের। তবে এই কাছে পাওয়ার অপেক্ষা ছিল চিরদিনের জন্য বিদায় দেয়ার অপেক্ষা।

এই দুজন হলো উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল কবীর ও বেসরকারি স্কুল শিক্ষিকা আক্তার বেগম দম্পতির মেয়ে।

তাদের তথ্যমতে, বাবার বয়স ৬৩ ও মার ৬০। দু’জনই চাকরি করলেও কখনই নিজেদের ভোগ-বিলাস বা ভ্রমণের চিন্তা করেননি। দুই মেয়ের পড়াশোনা ও সুখ-শান্তির কথা ভেবেছেন।

এবারই প্রথম উড়োজাহাজে চড়ে বিদেশে যাচ্ছিলেন। আর প্রথমবার উড়োজাহাজে চড়ে প্রাণটা হারালেন বাবা মা, এ কথা বলেই দু’বোন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বড় বোন কনক জানান, উড়োজাহাজ ছাড়ার সময় বাবা ফোন করে বলেছিলেন, এখনই উড়োজাহাজ ছাড়বে, তোর জন্য কিছু আনবোরে মা। জবাবে মেয়ে জানান, কিছু লাগবে না। তোমরা সহি সালামতে ফিরে এসো।

ছোট বোন কাকন জানান, মায়ের কাছে নেপাল থেকে জামা কিনে আনার বায়না ধরলে মা হেসে চোখের ইশারায় জামা নিয়ে ফিরবেন বলে ইঙ্গিত দিয়ে চলে যান। এ সময় দু’বোন জানায়, বাবা ও মার একসঙ্গে গেলেও মা আজ একাই ফিরেছে। তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তারা জানায়, বাবার মরদেহ আজ সকালে শনাক্ত হওয়ায় কাগজপত্র তৈরি না হওয়ায় মরদেহ আসেনি। তারা দেশবাসীর কাছে নিহত বাবা-মায়ের জন্য দোয়া চান।

গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২১১। এতে নিহত হন ৪৯ জন। তাদের মধ্যে ২৬ জনই বাংলাদেশি। এদের মধ্যে শনাক্ত করে ঢাকায় আনা হয়েছে এই ২৩ জনের মরদেহ।

যাদের মরদেহ আনা হয়েছে- আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার, শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল, সানজিদা ও নুরুজ্জামান।

শনাক্ত না হওয়ায় আনা হয়নি পিয়াস রায়, নজরুল ইসলাম ও আলিফুজ্জামানের মরদেহ।

উড়োজাহাজটিতে মোট ৬৭ যাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশি ৩২ জন, নেপালি ৩৩ জন, একজন মালদ্বীপের ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩৭, নারী ২৮ ও দুজন শিশু ছিল।

ad

পাঠকের মতামত