208962

স্বামী-সন্তান নেই জানানো হলো অ্যানিকে, যাচ্ছেন বিদায় দিতে

নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আলিমুন্নাহার অ্যানিকে তার স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। আহত মেহেদীই অ্যানিকে জানিয়েছেন যে, এই পৃথিবীতে তার স্বামী প্রিয়ক ও সন্তান তামাররা প্রিয়ন্ময়ী আর নেই।

এরই মধ্যে ১২ মার্চ নেপালে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ২৩ বাংলাদেশির মরদেহ নিয়ে বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইট দেশের পথে রওনা হয়েছে। এদের মধ্যে অ্যানির স্বামী প্রিয়ক ও সন্তান প্রিয়ন্ময়ীর লাশও রয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বিমানবাহিনীর একটি বিমান মরদেহগুলো নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টারমাক-১ এ অবতরণ করবে। সেখান থেকে মরদেহগুলো সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে আর্মি স্টেডিয়ামে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।

পরে সেখানে জানাজা হবে এবং সেখান থেকে লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এরই মধ্যে অ্যানিকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনায় শ্রীপুরে স্বামীর বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। মেহেদীও রিলিজ নিয়ে প্রিয়কের জানাজায় থাকবেন। পরিবর্তন ডটকমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন মেহেদির বাবা ও প্রিয়কের মামা তোফাজ্জল হোসেন।

উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহত তিন বাংলাদেশি মেহেদী হাসান, সৈয়দা কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও আলিমুন্নাহার অ্যানিকে গত ১৬ই মার্চ শুক্রবার বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি০৭২ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।

পরে সেখান থেকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে।

বিকেলেই তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের ক্যাবিন ব্লকে নেওয়া হয়। আহতরা সবাই একই পরিবারের। সম্পর্কে মেহেদী ও স্বর্ণা স্বামী-স্ত্রী। আর অ্যানি মেহেদীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী এবং নিহত প্রিয়কের স্বামী ও তামাররা প্রিয়ন্ময়ীর মা।

উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে ৭১ আরোহী নিয়ে গত ১২ মার্চ দুপুরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নামার সময় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১ রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।

এতে বিমানের ৫১ আরোহী নিহত হন। উড়োজাহাজে চার ক্রুসহ ৩৬ বাংলাদেশি ছিলেন। এদের ২৬ জনই নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন।

ad

পাঠকের মতামত