ফাইনাল হারের দুঃখ আজীবন মনে থাকবে: মুশফিক
নিদাহাস ট্রফির গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ওভারের পঞ্চম বলে বিশাল ছয় মেরে জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ফাইনালের চিত্রটা উল্টো। যে দিনেশ কার্তিক বলেছিলেন ‘বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে যে কোনো ম্যাচ জেতা কঠিন’ সেই তিনিই শেষ ওভারে সৌম্যের বলে ছয় মেরে জয় ছিনিয়ে নেন।
তার এই অতিমানবীয় ছয়ের কষ্ট বুকে দানা বেঁধেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। তবে টাইগার উইকেট কিপার-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহমান এই কষ্টগুলোকেই পুঁজি করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
শ্রীলঙ্কা থেকে আজ সোমবার দেশে ফিরেছে টাইগার বাহিনী। বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন খেলোয়াড়রা। দলের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলেন মি. ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম। বলেন, ‘আমরা সুযোগ হাতছাড়া করেছি। এমন জয় হাতছাড়া করার অনুভুতিটা কষ্টের। তবে এই যে কষ্ট, এটা আমরা মনে রাখব। এখান থেকে যেন আমরা আরও সামনে এগিয়ে যেতে পারি।’
ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজটি দলের অনেক প্রাপ্তির টুর্নামেন্ট বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মুশফিক। তিনি বলেন, হারের কষ্টটা মনে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে পরেরবার আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকবে বাংলাদেশ দল।
মুশফিক বলেন, ‘এই কয়টা দিন আমরা যেভাবে ক্রিকেট খেলেছি, ম্যাচ জিতেছি, পুরো বাংলাদেশ দল কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য। হোম সিরিজে টি-টোয়েন্টিতে আমরা যেভাবে হেরেছিলাম শ্রীলঙ্কার সঙ্গে, এরপর ওদের মাটিতে এভাবে জেতা অনেক বড় প্রাপ্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘরের মাঠে ক্লোজ ম্যাচ আমরা জিততে পারিনি, কিন্তু ওখানে আমরা ওভারকাম করে জিতেছি। এটাও আমাদের নতুন প্রাপ্তি। পুরো টি-টোয়েন্টি সিরিজে আমরা ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে পেরেছি। এটা আমাদের জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট, যা কিনা আমরা এর আগে করতে পারিনি।’
দলের হারে অনুভুতি প্রকাশ করার নয়। তবুও মানসিকতা শক্ত রেখে সামনের ম্যাচগুলো জন্য প্রস্তুত হতে হবে বলে মনে করেন নিদাহাস ট্রফিতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা মুশফিকুর রহিম। বলেন, ‘খারাপ তো লাগবেই, এতো কাছে এসেও আমরা ট্রফিটা পেলাম না। পরবর্তী সময়ে এমন পরিস্থিতি এলে আমরা নার্ভটা যেন আরও শক্ত রাখতে পারি, যেন তখন ওভারকাম করতে পারি।’
বিশ ওভারের ক্রিকেটে পাঁচবার ফাইনালে খেলে পাঁচটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে দুইবারই ভারতের বিপক্ষে। এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের কাছে দুই রানে হারের পর গতকাল রোববার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সেই ভারতের বিপক্ষেই আবার চার উইকেটে হার। তবে হারের বদলে প্রাপ্তিটাই বেশি বাংলাদেশের। বুক চেতিয়ে লড়াই করার প্রত্যয়গুলো হারের কারণেই বাড়ে বলেও মনে করেন এই ক্রিকেটার।




