208681

বাবার লাশ আটকে ছেলেদের পুলিশে দিলো ডাক্তার

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মতিউর রহমান (৫৫) নামে এক রোগীর বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ তোলায় ওই ব্যাক্তির দুই কিশোর ছেলেকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।

এঘটনায় এখনও মৃতব্যাক্তির লাশ মর্গে রয়েছে বলে জানান কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (অপারেশন) শাকির আহম্মেদ। তিনি বলেন, নেত্রকোনার মদন উপজেলার বাসিন্দা মতিউর রহমান ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়ায় আত্মীয়’র বাসায় শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ শ্রীলংকার মধ্যে টি-টোয়েন্টি খেলা দেখে উল্লাসে স্টোক করে।

রাত ১২টার দিকে তাকে তার সন্তানেরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। স্বজনদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ইন্টার্নী চিকিৎসক তাহসিন জোবায়ের তাকে রাতে শরীরে শুধু স্যালাইন পুশ করে। বারবার চিকিৎসকদেরকে তাগদা দিলেও কোন চিকিৎসক রোগীর সেবায় এগিয়ে আসেনি। সকাল ৬টার দিকে মতিউর রহমান মারা গেছে বলে চিকিৎসক তাদের সন্তানদের জানায়।

এই ঘটনায় মৃতব্যাক্তির নবম শ্রেণীতে পড়া মনোয়ার হোসেন এবং একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত সারোয়ার হোসেন ওই চিকিৎসকের সাথে অবহেলার অভিযোগ এনে আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকী দেয়।

এর পরেই চিকিৎসকরা তাদের আটকে রেখে মারধর করে এবং পুলিশে সোপর্দ করে। তাদের বাবার লাশ হাসপাতালে আটকে রাখে। পরে ঢাকা থেকে আসা তাদের বড় ভাই কাউসার জামিল হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনালের নাসির উদ্দিন আহম্মেদ এর কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে বাবার লাশ ফেরত নিতে চাইলেও লাশ দেয়া হয়নি।

দুপুরে দুই ভাই নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া মনোয়ার হোসেন এবং একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত সারোয়ার হোসেনকে প্রথমে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেন্টার ও পরে কোতোয়ালী মডেল থানায় নেয়া হয়। এদের বিরুদ্ধে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু এদের বয়স কম হওয়ায় পুলিশ কর্তৃপক্ষ শনিবার বিকালে কোতোয়ালী থানায় এবিষয়ে একটি সাধারন ডায়েরী করে এবং এই দুই কিশোরকে সমাজকল্যাণ অফিসারের জিম্মায় দেয়।এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনালের নাসির উদ্দিন আহম্মেদ এবং উপ-পরিচালক চিকিৎসক লক্ষী নারায়ন এর সাথে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

তবে একটি মাধ্যম জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই শিশুকে ছেড়ে দিতে চাইলেও ইন্টার্নী চিকিৎসকদের আন্দোলনের হুমকীতে তাদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল মর্গে আটকে রাখে লাশ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিহত ব্যাক্তির লাশ হাসপাতাল মর্গেই ছিল।

ad

পাঠকের মতামত