208803

যেভাবে দুইজনকে বাঁচালেন মেহেদী

বিধ্বস্ত বিমান থেকে বের হওয়ার জন্য রাস্তা খুঁজতেছিল মেহেদী হাসান। যখন রাস্তা পেলো তখন পরিবারকে বের করতে উঠে পরে লাগলো মেহেদী। শেষমেষ স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও ফারুক আহমেদ প্রিয়কের স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানিকে টেনে বের করতে সক্ষম হলেও বের করতে পারেনি প্রিয়কের কন্যা তামাররা প্রিয়ময়িকে।

দুর্ঘটনার আগে প্রিয়ক সবাইকে সতর্ক করে বলেছিলেন, সবাই প্রস্তুতি নাও আমাদের একটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। ঠিক তার আগেই প্রিয়ক তার নিজের সিটবেল্ট খুলে ফেলেছিল আর এই সিটবেল্ট খোলাটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।

রুপকের বড় ভাই লুৎফর রহমানের কাছে সেই দিনের ভয়াভহ অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই জানিয়েছেন দুর্ঘটনায় আহত মেহেদী হাসান।

মেহেদী, অ্যানি ও স্বর্ণা এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন। লুৎফর রহমান বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘শারীরিক ভাবে তারা বেঁচে আছেন কিন্তু প্রচণ্ড আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। কোনো ভাবেই ভুলতে পারছেনা সেই দিনের ঘটনা।’

রবিবার (১৮ মার্চ) ঢামেকের বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাপক নিরাপত্তার ভেতরে ১, ২, ৩ ও ৪ ক্যাবিনে অবস্থান করছে অ্যানি, মেহেদী, স্বর্ণা ও শেহরিন। রোগীদের সুবিধার্থে আত্মীয়স্বজনদের প্রবেশাধিকারও সংরক্ষিত করা হয়েছে। দুইজন করে খুব অল্প সময়ের জন্য তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুই আনসার সদস্য।

অ্যানি বারবার প্রিয়ময়িকে খুঁজছে বলে জানান লুৎফর রহমান। প্রিয়ময়ি সম্পর্কে জানতে চাইলে ছলছল চোখে তিনি জানান, মেয়েটা অনর্গল ইংরেজীতে কবিতা বলতে পারতো। ‘প্রিয়ময়ি’ সবাই তাকে আদর করে ডাকতো, সবার খুব আদরের ছিল।

এই ঘটনার পর থেকে পরিবারের সব সদস্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। প্রিয়ক খুব ভালো ফটোগ্রাফার ছিলো। ছবি তুলে অনেক পুরস্কারও পেয়েছিলেন।

এদিকে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী স্বর্ণার দুই বন্ধু সোমা ও ইশরাত অপেক্ষা করছিলো তার সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে না।

একই অবস্থা মেহেদী ও শেহরিনের ক্ষেত্রেও। শরীরের ৮ শতাংশ পুড়ে যাওয়া শেহরিনের পা ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আহত সব রোগীরা। তাদেরকে একনজর দেখতে আগ্রহী আত্মীয়স্বজনরা অপেক্ষা করছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অনেক সময় অপেক্ষার পর আবার চলেও যাচ্ছেন কেউ কেউ।

সোমা ও ইশরাত বলেন, ‘স্বর্ণার পরিবারও চেয়েছিল ওকে স্কয়ার অথবা এ্যাপোলোতে চিকিৎসা করাতে। কিন্তু সরকার ওদের পুরো দায়িত্ব নেয়ায় তা আর হচ্ছে না। যদিও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বলছে স্বর্ণাকে প্রায় ছয় সপ্তাহ চিকিৎসার আওতায় রাখতে হবে। কিন্তু একজন চিকিৎসক হিসেবে আমাদের মনে হয়েছে ওর অবস্থা ততটা গুরুতর নয়। ও খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবে এবং বাড়ি ফিরে যেতে পারবে।’

মানসিক অবস্থা বিপর্যস্ত থাকলেও শারীরিক অবস্থা আশঙ্কা মুক্ত নন বলে জানিয়েছেন, ঢামেকের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি জানান, আমাদের নতুন যে মেডিকেল বোর্ড গঠিত হয়েছে তাতে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন। আজ সকালে তারা এসে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমাদেরকে আস্বস্ত করে গেছেন। এছাড়াও সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়টা হচ্ছে বার্নের রোগীদের জীবাণু সংক্রমনটা অনেক সহজে হয়। যে কারণে আমরা তার আশেপাশে অন্যান্য মানুষদের কম ভিড়তে দিচ্ছি। একেবারে না আসতে দিলে ভালো হয়। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে। তবে সুস্থ হলেও সরকারি নির্দেশনা অনুসারে তাদেরকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

ad

পাঠকের মতামত