208251

এই ৫ কারণে পিএসজি ছাড়তে চান নেইমার

নেইমার কোথাও যাবেন। থাকবেন পিএসজিতেই। সাম্প্রতিক গুঞ্জন উড়িয়ে দিতে রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দিয়েছেন নেইমারের বাবা ও পিএসজি সভাপতি নাসের আল খেলাইফি। কিন্তু তাদের সেই ঘোষণা বাক্যও গুঞ্জন থামাতে পারছে না। বরং গুঞ্জনে আরও নতুন নতুন ডাল-পালা গজাচ্ছে। নেইমারের বাবা ও নাসের আল খেলাইফির ওই ঘোষণার পর রিয়াল মাদ্রিদ নাকি নেইমারের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে আরও বেশি মরিয়া। নেইমারও নাকি পিএসজি ছাড়তে মরিয়া। পিএসজি তথা ফ্রেঞ্চ লিগ থেকে তার মন উঠে গেছে। তাই নিয়ে ফেলেছেন ক্লাব ছাড়ার পাকা সিদ্ধান্ত!

কেন পিএসজি ছাড়তে এতোটা মরিয়া নেইমার? অনুসন্ধ্যানে নেমে কারণগুলো আবিষ্কারও করে ফেলেছে গণমাধ্যম। এক-দুটি নয়, মোট ৫ কারণে পিএসজি ছাড়তে চান নেইমার!

সতীর্থদের সঙ্গে অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই নেইমার পিএসজি অসুখী বলে জানা গেছে এতোদিন। কিন্তু গণমাধ্যমের নতুন আবিষ্কার বলছে, এতোদিনের ওই ধারণাটা ভুল! মনমালিন্য থাকতে পারে। কিন্তু নেইমারের পিএসজি ছাড়তে চাওয়ার পেছনে সতীর্থদের সঙ্গে সেই মনোমালিন্যের সম্পর্ক নেই। ড্রেসিংরুমের দ্বন্দ্বের কারণে নেইমারের মনটা বিষিয়ে উঠেনি!

তাহলে? কারণগুলো সবিস্তারে ব্যাখ্যা করা হলো এখানে।

১. অতি মাত্রায় ফাউল

নেইমার বুঝে ফেলেছেন, ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলাটা কঠিন। এমনিতেই ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের খেলোয়াড়েরা তুলনামূলকভাবে বেশি শরীর নির্ভর খেলা খেলে। তার উপর প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়েরা আবার তাকে ‘টার্গেট’ বানিয়ে ফেলেছেন। অতিমাত্রায় ফাউল করে তার জীবনটা কঠিন করে তুলেছেন। নেইমার যে আক্ষরিক অর্থেই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের ‘টার্গেট’, পরিসংখ্যানেই তার প্রমাণ। গত আগস্টে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে মৌসুমের এ পর্যন্ত ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে সবচেয়ে বেশি বার ফাউলের শিকার হয়েছেন নেইমার।

প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়েরা যেন নেইমারকে ‘ফাউল’ করার পণ নিয়েই নামেন মাঠে। ম্যাচপ্রতি গড়ে ৫.৭টি করে ফাউলের শিকার হয়েছেন তিনি! পিএসজির অন্যরা তো বটেই, ফ্রেঞ্চ লিগে খেলা আর কোনো খেলোয়াড়ই ম্যাচপ্রতি এতো বেশি ফাউলের শিকার হননি।

অথচ বার্সেলোনায় থাকতে স্প্যানিশ লা লিগায় তিনি ম্যাচপ্রতি ফাউলের শিকার হয়েছেন ৩.৩টি করে। পিএসজির হয়ে লিগে এ পর্যন্ত ২০টি ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। সেই ২০ ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়েরা তাকে ফাউল করেছে মোট ১০৪ বার। সেখানে বার্সেলোনায় ৪ বছরে ১২৩ ম্যাচে ফাউলের শিকার ৪৩১ বার।

শুধু তাই নয়। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের কড়া ট্যাকলের শিকার হয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে একাধিক বার। সর্বশেষ বার তো তাকে ৩ মাসের জন্য ছিটকে পড়তে হয়েছে মাঠের বাইরে। নেইমার তাই বুঝে গেছেন ফ্রান্সে তিনি নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারবেন না। ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের খেলোয়াড়েরা তার ক্যারিয়ারকেই ফেলে দেবে হুমকির মুখে।

২. রেফারিং

ব্রাজিলিয়ান পত্রিকা ইউওএল স্পোর্তে জানিয়েছে, পিএসজি থেকে নেইমারের মন উঠে যাওয়ার আরেক কারণ রেফারিং। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়েরা অতিমাত্রায় ফাউল করলেও রেফারিরা ‘সেরা’ খেলোয়াড় হিসেবে যথাযথ ‘সুরক্ষা’ দিচ্ছেন না। স্পেনে যেমনটা পেতেন। ‘সেরা’ খেলোয়াড়দের ‘বিশেষ’ সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টা ফুটবলের বিধানেই আছে। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে সব সেরা খেলোয়াড়দেরই বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়।

লা লিগায় যেমন রেফারিরা বিশেষ সুরক্ষা দেন মেসি-রোনালদোকে। কিন্তু ফ্রান্সের রেফারিরা নেইমারের ক্ষেত্রে তা করছেন না। কড়া ট্যাকল করলেও হলুদ কার্ড, লালকার্ড দেওয়া দূরের দূরের কথা, রেফারি কখনো কখনো ফাউলের বাঁশিও বাজাননা। রেফারিদের সেই পাস কাটানো দৃষ্টির সুযোগে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়েরা

ফাউলের মহোৎসবে মেতে উঠেছেন নেইমারের বিপক্ষে। অন্যদিকে তিনি গুরুতর ফাউল না করলেও পেতে হচ্ছে শাস্তি। অলিম্পিক মার্শেইয়ের বিপক্ষে সেই বিতর্কিত লালকার্ড প্রাপ্তির বিষয়টি এখনো ভুলতে পারছেন না নেইমার। ফলে ফ্রেঞ্চ লিগের রেফারিদের উপর থেকে নেইমারের মনটা একেবারেই উঠে গেছে। রেফারিংকেও মানছেন ক্যারিয়ারের জন্য হুমকি।

৩. টেকনিকে ঘাটতি

নেইমার এরই মধ্যে বুঝে ফেলেছেন, ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের খেলোয়াড়েরা টেকনিকের দিক থেকে যথেষ্ট মানসম্পন্ন নয়। লিগের খেলাও ইউরোপের অন্য শীর্ষ লিগগুলোর মতো মানস্পন্ন নয়। তাই অনুধাবন করতে পেরেছেন, ফ্রেঞ্চ লিগে খেললে তার পক্ষে বিশ্বসেরা খেলোয়াড় হওয়াটা কঠিন হবে। তার জিন্য উপযুক্ত স্প্যানিশ লা লিগা বা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ।

৪. নিম্নমানের মাঠ

ফ্রান্সের মাঠগুলোও নাকি স্পেন-ইংল্যান্ডের মাঠগুলোর মতো মানসম্পন্ন নয়। মাঠের পরিবেশও বাজে। সব মাঠ নয়। তবে বেশির ক্লাবেরই মাঠ নিম্নমানের। আগস্টে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পরই নাকি মাঠের অবস্থা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন নেইমার। শুধু তাই নয়, নেইমারের মতে, মাঠের কারণেই পিএসজি নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারছে না। অধিকাংশ ক্লাবের মাঠেই লম্বা ঘাস। আছে অসংখ্য গর্তও। নেইমার মনে করেন, এমন মাঠে খেললে চোটে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

৫. যাতায়াত ব্যবস্থা এবং দলীয় সভা

বাসে চড়ে প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে যাওয়াটা পছন্দ নয় নেইমারের। বাস ভ্রমণে বিশেষ ক্লান্তি বোধ করেন। অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে যাওয়ার জন্য ট্রেন বা বিমানে যাতায়াত করাতেই বেশি স্বাচ্ছন্ন বোধ করেন। কিন্তু পিএসজি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে যায় বাসে চেপে। তাতে নেইমার নাকি খুবই বিরক্ত।

এছাড়া প্রতিটা ম্যাচের আগেই দলের খেলোয়াড়দের টিপস দেন কোচ উনাই আমরি। ম্যাচের আগে কোচের দলীয় এই ‘টিপস-সভা’ সংস্কৃতি একদমই পছন্দ নয় নেইমারের। বার্সেলোনায় থাকতে কখনোই বিরক্তিকর এই অধ্যায়ের মুখোমুখি হতে হয়নি তাকে।

এসব কারণেই নেইমার বুঝে ফেলেছেন, ফ্রেঞ্চ লিগে খেললে তার বিশ্বসেরা খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন কোনো দিন পূরণ হবে না। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়েরা তার জীবনটাকে বরং বানিয়ে ফেলবে নরক। তাই স্বপ্ন পূরণ করতে তাকে ছাড়তে হবে ফ্রান্স। পাড়ি জমাতে হবে অন্য কোথাও। সেই অন্য কোথাটা যদি হয় বিশ্বসেরা রিয়াল মাদ্রিদ, তাহলে তো কথাই নেই।

ad

পাঠকের মতামত