207691

এখনো বাবাকে খুঁজে বেড়ায় একরামের এতিম সন্তানরা

এক সময়ের সন্ত্রাস সহিংসতার ভয়াল জনপদ ফেনীতে ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যাকাণ্ড সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। যে ঘটনাটি অতীতের সব বর্বরতাকে ছাড়িয়ে যায়।

২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমী সড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে একরামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে তাকে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

মঙ্গলবার একরাম হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আদালত। এ মামলার রায়ে চার্জশিটভুক্ত ৫৬ আসামীর ৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আদালত।

দেশের ইতিহাসে একটি হত্যা মামলায় এত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদানের ঘটনা এটিই প্রথম।

প্রায় ৪ বছর আগে প্রতিপক্ষের নিষ্ঠুর পৈশাচিকতার শিকার একরামের স্মৃতি এখনো খুঁজে বেড়ায় তার অবুঝ সন্তানরা।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, গত ক’বছর আগেই একরামের সন্তানদের নিয়ে রাজধানীতে বসবাস শুরু করেন তার স্ত্রী তাসমিন আক্তার।

বড় সন্তান আদনাইন তাজওয়ার হক তাহসিন রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণি ও আফরা জারিন সুবা হক আরেকটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ৩য় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। সাড়ে ৩ বছর বয়সী অন্য সন্তান নামিরা জারিন তাহা হক মামার মৃত্যুর সময় ছিল ৬ মাসের গর্ভে।

অবুঝ বয়সে বড় দু’সন্তান বাবার আদর-স্নেহ পেলেও সম্পূর্ণ বঞ্ছিত হয় নামিরা জারিন তাহা হক।

পারিবারিক সূত্র জানায়, শহরের মাস্টারপাড়ার বাড়িতে একরাম বেড়ে উঠলেও শৈশব থেকেই তার সন্তানদের বসবাস শুরু হয় রাজধানীতে। যে বাড়িতে রাত-দিন অসংখ্য নেতাকর্মীর আনাগোনা ছিল। সেই বাড়িটি এখন ফাঁকা। বাবা একরামের এমন বিভৎস্য ঘটনার স্মৃতি থেকে দূরে রাখতে তাদের নিজ জেলা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

আপাদমস্তক রাজনীতিক একরামের পৈশাচিকতার কথা মনে পড়লে এখনো আঁতকে উঠেন তার স্ত্রী তাসমিন আক্তার।

সন্তানদের আগলে রেখে সেই নৃশংসতা ভুলে থাকতে চান অকালে স্বামী হারা তিন সন্তানের জননী। মাঝেমধ্যে সন্তানদের নিয়ে নিরবে ফেনী ও ফুলগাজীর বাড়ী ঘুরে যান। বহুল আলোচিত হত্যা মামলাটির রায়ের দিনও আদালতে তাসমিন আক্তারসহ একরামের স্বজনরা ছিলেন অনুপস্থিত।

তাসমিন আক্তার পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ‘একরাম হত্যার রায়টি ফেনীসহ দেশবাসী জেনেছে। এ রায় নিয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। রায় নিয়ে মন্তব্য করে আমার সন্তানদের হুমকির সম্মুখিন করতে চাই না।’

তিনি বলেন, আমি শুধু বলবো অন্যায়ভাবে কোন স্ত্রী যেন স্বামী হারা কিংবা কোন সন্তান যেন বাবা হারা না হয়।’

তাসমিন আক্তার আরো বলেন, ‘আমার সন্তানরা তাদের বাবাকে খোঁজে। তারা তার বাবার স্মৃতি খোঁজার চেষ্টা করে। আমি তাদের উত্তর দিতে পারি না।’

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২০ মে শহরের একাডেমী সড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে একরামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে তাকে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ মামলার রায়ে চার্জশীটভুক্ত ৫৬ আসামীর ৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ১৬ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। অন্য আসামী রুটি সোহেল র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মারা যান। আসামিদের মধ্যে একমাত্র বিএনপি নেতা মিনার চৌধুরী ছাড়া অন্যরা সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী।

ad

পাঠকের মতামত