কৈশোরে প্রেম করে বিয়ে অতঃপর ভয়ংকর পরিণতি
কৈশোরে অনুভবের পরশ যখন ডানা মেলতে শুরু করে। তখন নতুন নতুন অনুভূতিতে শিহরিত হতে থাকে মনের গহীন। তৈরি হয় ভালোলাগার অদম্যতা। মন চায় অশরীরী বাঁধন। আর সেই বাঁধনকেই আমরা বলি প্রেম। সেই প্রেমের আবেগে অনেকেই হয়ে পরে অন্তঃসত্ত্বা। এরপর বিয়ের চাপ। বিয়েটা হলেও, মানতে নারাজ শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। তখন শুরু হয় ভয়ংকর পরিণতি। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে রংপুর মহানগরীর চিলমন পাঙ্গাটারী গ্রামে।
জানা গেছে, কিশোর বয়সে প্রেম করে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী রুমাইয়া আখতার রুমি। পরিবারের চাপে বিয়েও হয়। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকেদের চাপে গর্ভের সন্তানও নষ্ট করা হয়। আর তখনি শুরু হয় নতুন নাটক। রুমিকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। একমাস পর শ্বশুড়বাড়ি ফিরলে তাকে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানায় তারা। দু্ইদিন থেকে অভুক্ত থেকে পুনরায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশন শুরু করেছে রুমি।
বুধবার (১৪ মার্চ) বিকাল পর্যন্ত ওই কিশোরীকে ঘরে তুলে নেয়নি স্বামীর পরিবার। উল্টো তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকেও কোনো সহযোগীতা পায়নি কিশোরী রুমি। বিয়ের ছয়মাস অতিক্রম করার পর তার জীবন এখন ভয়ংকর পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
রংপুর মহানগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বধু কমল এলাকার এনামুল হকের মেয়ে রুমি। স্বামী তাওহিদ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চিলমন পাঙ্গাটারী এলাকার আমিনুর রহমানের ছেলে।
অনশনরত কিশোরী রুমি জানায়, নগরীর মহব্বত খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় একই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র তাওহিদের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে তাওহিদকে বিয়ের চাপ দিলে সে অস্বীকৃতি জানায়।
এরপর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রাম্য বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু রুমির বয়স কম থাকায় তাওহিদের বাবা আমিনুর রহমান ওই সময় বিয়ের রেজিস্ট্রি করাননি।
রুমি আরও জানান, বিয়ের পর তাওহিদের পরিবারের লোকজন আমার সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে আমার পড়ালেখার কথা চিন্তা করে তারা আমার দুই মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট করে। এর কিছুদিন পর আমাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয় তারা। সেখানে এক মাস থাকার পর আমি আবারও স্বামীর বাড়িতে আসলে আমাকে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানায় স্বামীর পরিবার।
মঙ্গলবার সকালে মেম্বার আবুল হোসেন তাওহিদের বাড়িতে আমাকে উঠিয়ে দিতে আসলেও তারা আমাকে বাড়িতে তুলে নেয়নি। এমনকি মেম্বারের সামনেই শ্বশুড় আমিনুর, শাশুড়ি নুরজাহানসহ অন্যান্যরা আমাকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে দেয়। এখন আমি স্বামীর বাড়ির গেটের সামনে অনশনে বসেছি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম দেওয়ানী, কোতোয়ালি থানার ওসিসহ সবাইকে জানায় রুমি। কিন্তু কেউ এখন পর্যন্ত তার দাবি পূরণে এগিয়ে আসেনি। বরং তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার স্বামীকে লুকিয়ে রেখে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য মারপিট করার পাশাপাশি হুমকি ধামকিও দিচ্ছে। তবে বিয়ের স্বীকৃতি যতদিন পর্যন্ত দেয়া হবে না ততদিন সে না খেয়ে থাকবে বলেও জানান।
মহব্বত খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেন বলেন, রুমি আমার বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। গত ৬ মাস আগে বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান করা হয়েছিল। কিন্তু এখন ছেলের পরিবার এমন কেন করছে বুঝতে পারছিনা। এতে মেয়েটির জীবন হুমকির মুখে পড়েছে।
রুমির বাবা এনামুল হক অভিযোগ করেন, ওরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না। বলতে গেলেই মামলা করার হুমকি দিচ্ছে। আমার মেয়ের জীবনটাকে ধংস করে দেয়া হচ্ছে।
উল্টো অভিযোগ করে তাওহিদের বাবা আমিনুর রহমান বলেন, ছয় মাস আগে রুমির পরিবারের লোকজন আমার ছেলেকে জোর করে বিয়ে দেয়। তখন মৌখিকভাবে আমাদের মধ্যে একটা চুক্তি হয় যে, ছেলে মেয়েরা সাবালক না হওয়া পর্যন্ত সংসার করবে না। সেজন্যই আমি ঘরে তুলিনি। তবে প্রোরোচিত করে পেটের সন্তান নষ্ট করার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
রংপুর সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম দেওয়ানী জানান, এ ব্যাপারে বুধবার রাতে দুই পরিবারকে নিয়ে বসার কথা আছে। আশা করি বিষয়টি সমাধান হবে।
রংপুর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান সাইফ জানান, ভুক্তভোগী কিশোরী মোবাইলে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।




