যারা এতিমের টাকা চুরি করে তারা যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা এতিমের টাকা চুরি করে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে, মানুষকে পুড়িয়ে মারে, তারা যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আজ বিকালে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক সম্পর্কে সবাই সজাগ থাকবেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। পূর্বে যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের সময়তো দেশ এতো উন্নতি করতে পারেনি। তারা দেশের উন্নয়নে বিশ্বাস করতো না।
যারা দেশের স্বাধীনতাই চায়নি তারা দেশের উন্নয়ন চাইবে কেন?
সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। জনসভা ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। দুপুরের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় ভরে যায়। পরে নেতাকর্মীদের স্রোত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের রাস্তায়। সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়।
বিকাল চারটার পর বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যের শুরুতে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা সারাটা জীবন সংগ্রাম করেছেন এদেশের শোষিত বঞ্চিত মানুষের জন্য। এদেশে একবেলা খাবার পেতো না এমন কোটি মানুষ ছিল। পরনে ছিল ছিন্ন কাপড়। রোগে ধুকে ধুকে মারা যেতো। মানুষ ছিল শোষিত বঞ্চিত। তাদের সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য ছিল জাতির পিতার সংগ্রাম। শোষণ বঞ্চনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি বার বার কারাগারে গেছেন। ৭ই মার্চসহ স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ই মার্চ, ১৭ই মার্চ এমনকি ১৫ই আগস্টের কর্মসূচি পালন করা যেতো না। এই কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ইতিহাসকে কেউ নিশ্চিহ্ন করতে পারে না। আজকে এটা প্রমাণ হয়েছে। ৭ই মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক প্রামান্য দলিলের স্বীকৃতি পেয়েছে। আড়াই হাজার বছরে যতো ভাষণ পৃথিবীতে হয়েছে বৃটিশ সাংবাদিক ও লেখক তা নিয়ে গবেষণা করে ৪১টি ভাষণ বেছে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৭ই মার্চের ভাষণ স্থান পেয়েছিল। জাতির পিতার এই ভাষণের মাধ্যমে পাকিস্তানীদের অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়নের ইতিহাস উঠে এসেছে। অপর দিকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় কি কি করনীয় তাও তিনি বলে দিয়েছিলেন এই ভাষণে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ই আগস্টে আমরা আপনজন হারিয়েছিলাম। বিচার চাইবার কোন অধিকার ছিল না। মামলা করতে গিয়েছিলাম, মামলা নেবে না। কোন সভ্য দেশে কখনও এমন আইন হতে পারে। এটা কখনও হতে পারে। বাংলাদেশে সেই ঘটনা ঘটেছিল। আমরা সংগ্রাম করেছি বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য। এই অবিচার দুর করার জন্য। সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা ২১ বছর পর সরকার গঠন করতে পেরেছিলাম। এই সংগ্রামে অনেকে মৃত্যুবরণ করেছে, আহত হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারের উন্নয়নের তথ্য তুলে ধরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের প্রতি আহ্বান- গ্রামে গঞ্জে উন্নয়নের চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।




