বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে চোখ রাখতে হবে যাদের উপর
নিদাহাস টি-টুয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু। মঙ্গলবার ত্রিদেশীয় সিরিজটির প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরেছে ভারত। বাংলাদেশের বিপক্ষে তাই সিরিজে ফিরতে মরিয়া থাকবে দলটি। অন্যদিকে সম্প্রতিক সময়টা ভালো কাটছে না বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কায় ভালো সময়ের খোঁজে টাইগাররা। তাদের প্রেরণা গত বছরের শ্রীলঙ্কা সফর। যেখানে দারুণ সময় পার করে বাংলাদেশ। নিদাহাস ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের তাজা স্মৃতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের। তবে ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টিতে জয়ের ইতিহাস নেই বাংলাদেশের। তারপরও সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশ-ভারত লড়াই মানেই বারুদে উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার মাঠে তার ছাপ থাকবে কি? দুই দলের লড়াই কেমন হবে সে সময়ই বলবে। তবে ম্যাচটিতে চোখ রাখতে হবে কয়েকজন খেলোয়াড়ের উপর।
সুরেশ রায়না
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দীর্ঘদিন পর ভারতীয় দলে ফিরেছেন সুরেশ রায়না। টেস্ট ও ওয়াডেতে ২০১৫ সাল থেকেই দলের বাইরে তিনি। টি-টুয়েন্টি খেলে যাচ্ছিলেন। সেখানেও একটা ছেদ পড়েছিল। তবে প্রায় এক বছর পর টি-টুয়েন্টি দলে ফিরে রায়না এখন নিজের জায়গাটা পুনরুদ্ধারের জন্য লড়ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন টি-টুয়েন্টিতে তার সংগ্রহ ছিল ৭৫ রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মঙ্গলবার ব্যর্থ ছিলেন তিনি। মাত্র ১ রান করে নুয়ান প্রদিপের বলে বোল্ড হন। কিন্তু অভিজ্ঞ এ ক্রিকেটার নিজের ফেরার ইনিংসটা না বাংলাদেশের বিপক্ষেই খেলে ফেলেন! দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের সঙ্গে অফ ব্রেক বোলিংটাও ভালো করেন তিনি।
সৌম্য সরকার
বাজে ফর্মের কারণে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দলে ছিলেন না সৌম্য সরকার। তবে দুই ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ফিরেছিলেন। যার প্রথমটিতেই ৫১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। পরের ম্যাচে অবশ্য শূন্য রানে কাটা পড়েছিলেন। তবে নিদাহাস ট্রফিতে খেলতে যাওয়ার আগে নিজেকে ফের প্রমাণের কথা বলে গেছেন সৌম্য। তামিম ইকবালের সঙ্গে তার জুটিটা দারুণ। শুরুতে যার ব্যাটে ঝড়ের জন্য তাকিয়ে থাকে সবাই।
রিশভ পান্ত
এক বছর আগে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ভারতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল রিশভ পান্তের। হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান হিসেবে সু-খ্যাতি এই দিল্লি ব্যাটসম্যানের। যদিও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মঙ্গলবার নিজের নামের প্রতি পুরো সুবিচার করতে পারেননি। ২৩ বলে ২৩ রান করেছেন। যা পরিস্থিতি অনুযায়ী অবশ্য কার্যকরই বলতে হবে। তবে ব্যাটে-বলে টাইমিং মেলাতে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে পান্তকে। বেশ ক’জন সিনিয়র খেলোয়াড় নেই। পান্তের মতো তরুণদের তাই প্রমাণের সুযোগ এই সিরিজে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই পান্ত চাইবেন নিজেকে প্রমাণ করতে।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি সিরিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নেতা হিসেবে চোখ কাড়া। কিন্তু সাফল্য মেলেনি। নিদাহাস ট্রফিতেও সাকিব নেই তাই ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। অনেক দিন ধরেই তিনি নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটারে পরিণত হয়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ টি-টুয়েন্টি সিরিজেও দারুণ ফর্মে ছিলেন। প্রথম ম্যাচে ৪৩ রানের পর দ্বিতীয় ম্যাচে করেন ৪১ রান। কলম্বোতে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ২৭ বলে ৪৩ রান করে সিরিজে ভালো করার আভাসটা দিয়ে রেখেছেন।
শিখর ধাওয়ান
ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় স্তম্ভ শিখর ধাওয়ান। মঙ্গলবারও যিনি ৯০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। সেঞ্চুরি মিস করার আক্ষেপ খুব কাছে গিয়ে। তবে তার ইনিংসে ভর করেই শ্রীলঙ্কাকে ১৭৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল ভারত। যদিও ম্যাচটা জেতা হয়নি তাদের। তবে ধাওয়ান প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ করেছেন দারুণ ফর্মে আছেন তিনি। তাকে দ্রুত ফেরাতে চাইবেন বাংলাদেশের বোলাররা।
মোস্তাফিজুর রহমান
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমানদের সঙ্গে পিএসএল খেলে শ্রীলঙ্কায় পাড়ি দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। যেখানে তার দল লাহোর খুব বেশি ভালো করতে না পারলেও কাটার মাস্টার বোলিংয়ে ছিলেন ধারাবাহিক। তাছাড়া ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মোস্তাফিজ এমনিতেই আলোচনায় উঠে আসেন। ২০১৫ সালে তার ওয়ানডে অভিষেকের সিরিজেই ভারতকে ২-১ এ সিরিজ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েই বিস্ময়কার আত্মপ্রকাশ হয়েছিল এই বাঁহাতি ফাস্ট বোলারের।




