204859

বিএনপিপন্থীদের এত রূপবদল কেন?

বিনোদন ডেস্ক : বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘জাসাস’। যে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই। অনেকে এর সঙ্গে যুক্ত না থেকেও মুখে বিএনপির প্রতি সমর্থন দিয়ে সুবিধা ভোগ করেছেন একটা সময়। সময় বদলে গেছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় নেই বিএনপি। দলের এসব সংস্কৃতি কর্মীদের রূপও বদল হয়েছে। যেমন শাবানা, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁর সিনেমার আনুষ্ঠানিকতাতেও দেখা যেত খালেদা জিয়াকে। তিনি এখন আওয়ামী লীগ আর বর্তমান সময়ের প্রধানমন্ত্রীর সর্বত্র গুনগান করে বেড়ায়। এই সরকারের আমলেই তাঁকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টা অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর কানে দিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সবকিছুতে আমি দল দেখিনা। তার কাজের জন্য এটা প্রাপ্য। ওরকম বাছাই বিএনপি করুক।’

পরিচালক আমজাদ হোসেন, অভিনেত্রী মৌসুমী, ওমর সানী, অমিত হাসান, মিশা সওদাগর, শিবাশানু, আজিজ রেজা, শাহরিয়ার নাজিম জয়, ইলিয়াস কোবরা, সিমলা , মুহিন, পলাশ সবার নামই রয়েছে জাসাসের খাতায়। কিন্তু দীর্ঘদিন সেটা সকলের অগোচরে রয়েছে। এই অগোচর কেন? অনেকে এক কথায় বলে দেয় ‘সুবিধাভোগি’।

রিজিয়া পারভীন, উজ্জল, গাজী মাজহারুল আনোয়ার,গীতিকার মনিরুজ্জামান মনির, ইথুন বাবু, মনির খান, আহমেদ রিজভী, হাসান জাহাঙ্গীর, বাদশা বুলবুল, বেবি নাজনীন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি করছেন। এদের মধ্যে কয়জনকে বিএনপির কোন সভা কিংবা অনুষ্ঠানে এই সময়ে দেখেছেন? একটা সময়ে কিন্তু তারা ছিলেন। সময়মতো পল্টি দিয়েছেন।

২০১১ সালের আগের ঘটনা। তুমুল জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী আসিফ আকবার নির্বাচনের মাঠও গরম করতে নামলেন। কিন্তু পাত্তা পেলেন না স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে বিএনপির এক অনুষ্ঠানে নাম ঘোষণায় আসিফকে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতা হিসেবে উল্লেখ না করায় তিনি ক্ষেপে গিয়ে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদককে গালাগাল ও মারধোর করেন। আর এ ঘটনা ঘটে কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার সামনে।

জানা যায়, ওই ঘটনার জের ধরে দল থেকে যখন আসিফকে বহিস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল ঠিক তখনই তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর রাজনীতির মাঠে অনেকটা চুপ হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু এই এক ঘটনায় বিএনপির প্রতি ভালবাসা কমে গেল কীভাবে!

তারপর থেকে আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনেক অনুষ্ঠানেই তাকে গান করতে দেখা যায়। আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের মানুষের সঙ্গে তার উঠবস। হাই হ্যালো নিয়মিতই চলে। আর এর কারণ কী? অনেকেই বলছে এমন ঘেষে কী তিনি আওয়ামীলীগে নাম লেখাতে চাচ্ছেন?

গায়িকা ন্যানসিও রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। জাসাসের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি করা হয়েছিল তাঁকে। এ প্রসঙ্গে ন্যান্সি সাংবাদিকদের বলেছেন, বিএনপির আদর্শের প্রতি আমার ভালো লাগা অনেক আগে থেকেই। আমার মা নেত্রকোনা জাসাসের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ আমাকে মুগ্ধ করেছে।’। সেই ন্যানসিই কিছুদিন পর রূপ বদল করে ফেললেন। একটাই কারণ ন্যান্সি বেকার হয়ে পড়ছিলেন। পরবর্তীতে জাসাস থেকে পদত্যাগ করেন। এমনকি বিএনপির কর্মাকাণ্ডতেও তাঁর দেখা নেই। ভালবাসা তাহলে কদিনে উবে গেল!

জনপ্রিয় গায়ক এস ডি রুবেলও জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন দীর্ঘ দিন । কিন্তু এখন তিনি আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির তিন নম্বর সদস্য।

আওয়ামী লীগের উপ-কমিটিতে এসডি রুবেলের জায়গা পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সামলোচনা ও হাস্যরস।

এই হাস্যরস বিএনপিপন্থী অনেক সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়েই নিয়মিত করা হয়। কিন্তু অনেকে আবার সম্মান দেয় সংস্কৃতিকর্মী বলে। কিন্তু স্বার্থের জন্য তো তাঁরা এমন রুপ বদল করে। সেটা কী ঠিক?

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

ad

পাঠকের মতামত