204664

দীর্ঘ ১৪ বছরে একদিনও ছুটি নেননি ইনি!

প্রেমলাল সিংহদীর্ঘ কর্মজীবনে ছুটি নেয়া তো দূরে থাক, অফিস ছুটির দিনেও ছুটি নেননি তিনি। ছুটির দিনেও স্কুলে চলে আসেন তিনি। স্কুলের বাগানে পানি দেন কিংবা ভোকেশনাল কোর্সের পাঠদানে সাহায্য করেন। শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনা কিন্তু সত্যি।
এটা তার নিত্যদিনের রুটিন। ভারতের শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়া মুরালিগঞ্জ স্কুলের কর্মী প্রেমলাল সিংহ। তার কাজের প্রতি নিষ্ঠার দৃষ্টান্তে অভিভূত স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকরা ও কর্মচারীরা।

বছর আটচল্লিশের প্রেমলালের বাড়ি স্কুল থেকে দু’কিলোমিটার দূরে জাগিরভিটা এলাকায়। ২০০৪ সালে ফাঁসিদেওয়া মুরালিগঞ্জ স্কুলে স্কুলকর্মী হিসেবে কাজে যোগ দেন প্রেমলাল সিংহ। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ওই স্কুলের চাকরি করছেন তিনি। কিন্তু ছুটি নেননি একদিনও!

এ বিষয়ে প্রেমলাল সিংহের বক্তব্য, নিখাদ ভালোবাসা থেকেই রোজ স্কুলে চলে আসা তার। স্কুলে না এসে বাড়িতে বিশ্রাম নেয়ার কথা ভাবতে পারেন না। এমনকী রোববারও রুটিনে কোনও বদল হয় না।
প্রেমলালের তিন ছেলে। সবাই ফাঁসিদেওয়া মুরালিগঞ্জ স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন। স্ত্রী-পুত্র নিয়ে ভরা সংসার। সাংসারিক দায়িত্ব সামলে রোজ স্কুলে আসতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে প্রেমলালকে।

কিন্তু কোনোদিন স্কুল কামাই করেননি তিনি। একবার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রাতে স্ত্রীর পাশে থাকলেও সবাইকে অবাক করে সকালেই স্কুলে চলে এসেছিলেন প্রেমলাল।

যেদিন স্কুল খোলা থাকে, সেদিন সকাল দশটার মধ্যে চলে আসেন প্রেমলাল সিংহ। নিজের হাতে স্কুলের প্রতিটি ক্লাসরুমের দরজা খোলেন তিনি। এরপর নানা ধরনের কাজ করতে হয় তার। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে একই রুটিনে কাজ করতে এতটুকু ক্লান্ত হন না স্কুলের এই কর্মী।

বরং প্রত্যয়ের সঙ্গে প্রেমলাল সিং জানালেন, ১৪ বছর যখন এভাবেই কাজ করে যেতে পেরেছি, বাকি কর্মজীবনটাও একইভাবে কাটিয়ে দিতে চাই।

তার এমন দৃষ্টান্তে মুগ্ধ ফাঁসিদেওয়া মুরালিগঞ্জ স্কুলের প্রধানশিক্ষক সামসুল আলম। তিনি বলেন, প্রেমলালের কাজের প্রতি নিষ্ঠা দেখলে অবাক হতে হয়। অনেক সময় বলেও ওকে ছুটি নেওয়ানো যায়নি।

ad

পাঠকের মতামত