204398

দরজা ভেঙে মেয়রের চেয়ারে বসে চা খেলেন আ. লীগ নেতা!

দরপত্রের কার্যাদেশে স্বাক্ষর করতে বিলম্বের অভিযোগে বগুড়া পৌরসভার মেয়রের কার্যালয়ের দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে মেয়রের চেয়ারে বসেই চান পান করলেন শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আবদুল মান্নান। এ সময় তিনি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালাগালি করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ রোববার সকালে পৌরভবনে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ মিনিট ধরে ওই আওয়ামী লীগ নেতা এ কাণ্ড ঘটায়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ হাজির হলে তিনি ও তার লোকজন পৌরভবন ত্যাগ করেন। তবে ঘটনার সময় মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

আবদুল মান্নান বগুড়া জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি ও প্রথম শ্রেণির একজন ঠিকাদার।
পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঠিকাদার আবদুল মান্নান কয়েকজন লোককে সঙ্গে নিয়ে আকস্মিকভাবে পৌরভবনে যান। এ সময় তার কাজের কার্যাদেশ না দেওয়ার কারণ জানতে চান।

এক পর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে মেয়রের কক্ষে প্রবেশের মুখে লাগানো থাই অ্যালুমিনিয়াম সিটের দরজায় লাথি মেরে সেটি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারপর মেয়রের চেয়ারে বসে তার ঠিকাদারি ফাইল তলব করেন।
পরে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর রেজা তাকে মেয়রের চেয়ার থেকে উঠতে বললে, তিনি অশ্লীল ভাষায় মেয়র ও পৌর কর্মকর্তাদের গালাগালি করেন। এতে পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাসহ কর্মচারীরা ভীত হয়ে পড়েন। এমনকি ঠিকাদার মেয়রের চেয়ারে বসে চা পান করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মান্নান তার লোকজন নিয়ে চলে যান।

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই ঠিকাদার টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডারের দাবি করেছিলেন।

এ বিষয়ে মেয়রের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঠিকাদার আবদুল মান্নান আকন্দ মেয়রের কক্ষে ঢুকে তার খোঁজ করেন এবং তিনি কেন এখনো কার্যাদেশে স্বাক্ষর করেননি তা জানতে চান। তখন পৌরসভার কর্মকর্তারা তাকে জানান, মেয়র ঢাকায় রয়েছেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি কক্ষের দরজায় লাথি দিয়ে ভেঙে ফেলেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে নিবৃত্ত করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পৌরসভার ১৭টি দরপত্রের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠান মেসার্স শুকরা এন্টারপ্রাইজের নামে পাঁচটি দরপত্রের কার্যাদেশের জন্য বিবেচিত হন। দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস পার হলেও সেসব কাজের দাপ্তরিক চিঠিতে এখনো স্বাক্ষর করেননি মেয়র। অথচ সেসব কাজের জন্য অনেক আগেই শ্রমিক নিয়োগ করে ফেলেছেন তিনি।

আবদুল মান্নান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মেয়রের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি ছিলেন না। তখন প্রকৌশলীসহ অন্যদের কাছে কার্যাদেশ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে, তারা সদুত্তর না দেওয়ায় কিছুটা রাগান্বিত হয়ে দরজার পাশে লাথি মারলে কিছুটা ভেঙে যায়। পরে মেয়রের কক্ষে কিছুক্ষণ বসে চা পান করে চলে এসেছি।’

মেয়রের কক্ষে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটাননি বা মেয়রের চেয়ারে বসেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মোবাইল ফোনে জানান, তিনি ঢাকায় রয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে পৌরসভার সচিবকে লিখিতভাবে পুলিশকে জানাতে বলেছেন।পৌরসভার সচিব ইমরোজ মুজিব জানান, থানায় অভিযোগের প্রক্রিয়া চলছে।

জানতে চাইলে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ হোসেন জানান, তারা প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়

ad

পাঠকের মতামত