203944

ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বেই কলেজছাত্র রনো খুন

পুরান ঢাকায় হোলি উৎসবের মাঠে শত শত মানুষের সামনে নৃশংসভাবে হত্যাকা-ের শিকার রওনক হোসেন ওরফে রনোর (১৯) খুনিরা ধরা পড়েনি দুই দিনেও। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এ ঘটনায় রনোর সাবেক প্রেমিকা মাইশা, তার বন্ধু তোহু এবং তার বন্ধুরা জড়িত। হোলি উৎসবের নাম করে তাকে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশও বলছে, নেপথ্যে প্রেমঘটিত কোনো দ্বন্দ্ব থাকতে পারে।

এ ঘটনায় গতকাল রাত পর্যন্ত রনোর সাবেক প্রেমিকা কোতোয়ালি থানাধীন লক্ষ্মীবাজারের বাসিন্দা কলেজছাত্রী মাইশা ছাড়াও ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

জানা গেছে, কলেজছাত্রী মাইশার সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল রনোর। মাসচারেক আগে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর পুরান ঢাকার বাসিন্দা তোহু নামে আরেক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় মাইশা। বিষয়টি জানতে পেরে মাইশাকে ফিরে পেতে তাকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে রনো; কিন্তু মাইশা তাতে রাজি হচ্ছিল না। পুরনো সম্পর্ক জোড়া লাগাতে এক মাস ধরে জোর প্রচেষ্টা চালায় রনো। বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি তোহু। এ নিয়ে কিছুদিন আগেও লক্ষ্মীবাজারে তোহু ও তার বন্ধুরা রনোকে পিটিয়ে আহত করে। ঘটনা জানতে পেরে রনোর মা ছেলেকে মাইশার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতে এবং লক্ষ্মীবাজার এলাকায় যেতে নিষেধ করেন। মায়ের কথায় পুরান ঢাকায় না গেলেও মাইশাকে ফোন দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেনি সে। যে কারণে রনোকে হত্যার ছক কষা হয়। সন্দেহের ঊর্ধ্বে থাকতে হোলি উৎসবকে বেছে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে হোলি উৎসবের নাম করে মাইশা মোবাইল ফোনে রনোকে লক্ষ্মীবাজারে ডেকে নেয়। পরে হলি উৎসবে ঢোকার কিছু সময়ের মধ্যেই সাত-আটজনের একটি দল রনোকে খুন করে পালিয়ে যায়।

নিহতের খালু আবদুল জব্বার জানান, রনোকে হত্যার পেছনে মাইশা ও তার বন্ধু তোহু জড়িত। এরাই হোলি উৎসবের নাম করে রনোকে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। ঘটনাস্থলে তোহু উপস্থিত থাকলেও ঘটনার পর থেকে সে পলাতক। সে ছাড়াও তার কয়েক বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) বদরুল হাসান আমাদের সময়কে বলেন, এ পর্যন্ত ১৩ থেকে ১৪ নারী-পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। নিহতের স্বজনদের অভিযোগের আলোকে হত্যার পেছনে প্রেমঘটিত কারণকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এখনো প্রকৃত অপরাধীরা গ্রেপ্তার হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

ad

পাঠকের মতামত