203188

‘চা খেয়ে চলে যান, নিউজ-ফিউজ করার দরকার নাই’

ধলেশ্বরী নদী থেকে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে শতাধিক ফসলি জমি। শুধু তাই নয়, রাস্তা-ঘাট ও বাড়িঘরও ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন সাভারের ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের আড়ালিয়া বাজারের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে ধলেশ্বরী নদী এলাকায় দেখা যায়, ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের সীতিপাল্লী এলাকায় অবৈধভাবে নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ—বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন লাল মিয়া নামের একজন ব্যক্তি। প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালি বিক্রি করে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত লাল মিয়ার অধীনে তিন শ্রমিক ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তারা বলেন, বালু উত্তোলনের ফলে সেখানকার ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট বাড়ি ঘর হুমকির মুখে রয়েছে। এরই মধ্যে নদীর দুপাড় ভাঙতে শুরু করেছে। ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলায় নদীর বিভিন্ন স্থানে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার সাধারণ মানুষ বালু তোলা বন্ধের দাবি জানালেও তা বন্ধ হচ্ছে না। বরং বালু ব্যবসায়ী লাল মিয়া তাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন। এ কারণে ভয়ে অনেকে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।

বালু তোলায় নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় আশংকা দেখা দিয়েছে তীরবর্তী বহু লোকের জমিজমা। মিজানুর, সেলিম, জাহিদ নামের তিন ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তারা ড্রেজার মেশিনের শব্দে দিনে বাড়ি ঘরে থাকতে পারছি না। এ ছাড়া স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতে পড়াশুনা করতে পারছে না। আমরা বর্তমানে খুব সমস্যার মধ্যে আছি। প্রশাসন সব কিছু দেখেও না দেখার ভান করছে
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বালু উত্তোলনকারী লাল মিয়া বলেন, ‘আপনারা এখানে এসেছেন চা খেয়ে চলে যান কোন নিউজ-ফিউজ করার দরকার নাই। আমরা তো আপনাদেরই ভাই ব্রাদার।’

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম বলেন, যদি ধলেশ্বরী নদী থেকে কেউ বালু উত্তোলন করে থাকে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি অচিরেই অবৈধ বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ধলেশ্বরী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) এম এ মালেকসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষরা।

ad

পাঠকের মতামত