মার্চ থেকে সড়কে আর চলবে না সিএনজিচালিত অটোরিকশা
আগামী মার্চ মাসেই শেষ যাচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোর বর্ধিত মেয়াদ। কিন্তু এগুলোর আয়ুষ্কাল আরও বাড়বে কি না, সে সংক্রান্ত মতামত এখনো দেয়নি বুয়েট।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এখন এই অল্প সময়ে ইঞ্জিন ও গ্যাস সিলিন্ডার পরিবর্তন করে মেয়াদ বৃদ্ধি কিংবা নতুন অটোরিকশা প্রতিস্থাপন—কোনোটিই সম্ভব হবে না
এতে অটোরিকশা খাতে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরে চলাচল করা অটোরিকশাগুলোর মধ্যে ২০০২ মডেলের অটোরিকশা আছে ৮ হাজার ৪২১টি। এর মধ্যে ঢাকায় আছে ৫ হাজার ৫৬১টি ও চট্টগ্রামে আছে ২ হাজার ৮৬০টি।
নিবন্ধনের সময় এসব অটোরিকশার মেয়াদ বা আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ বছর। পরে মালিক ও চালকদের দাবির মুখে তিন দফায় অটোরিকশাগুলোর মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়।
১৫ বছরের মেয়াদ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়। অটোরিকশার মালিকদের দাবি ও বিআরটিএর সুপারিশের ভিত্তিতে ওই দিনই (গত ৩১ ডিসেম্বর) ১৫ বছরের পুরোনো এসব অটোরিকশার মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হয়। বর্ধিত মেয়াদ আগামী ৩১ মার্চ শেষ হবে।
গত ১১ ডিসেম্বর অটোরিকশাগুলোর মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর সুপারিশ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল বিআরটিএ। বিআরটিএর চিঠিতে বলা হয়, অটোরিকশার মেয়াদ কত বছর বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে মতামত দিতে বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
যন্ত্রকৌশল বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, অটোরিকশাগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি করা যায় কি না এবং করা গেলে ইঞ্জিন ও গ্যাস সিলিন্ডার প্রতিস্থাপনসহ অন্যান্য কী কী শর্তে কত বছর বৃদ্ধি করা যাবে তা জানতে চারটি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। প্রক্রিয়াগুলো শেষ করতে ছয় থেক আট সপ্তাহ সময় লাগবে।
এই জটিলতা নিরসনে অটোরিকশাগুলোর জন্য ছয় মাসের সময় চেয়েছিল বিআরটিএ। বিআরটিএর এই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সময় দিয়েছিল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। বিআরটিএ সূত্র বলছে, এখনো বুয়েটের মতামত না পাওয়ায় তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নতুন অটোরিকশা প্রতিস্থাপন কিংবা ইঞ্জিন ও গ্যাস সিলিন্ডার পরিবর্তন করে অটোরিকশার মেয়াদ বাড়ানোর মতামত দেবে বুয়েট।
ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের সদস্যসচিব এ টি এম নাজমুল হাসান বলেন, চলতি সপ্তাহে বুয়েট মতামত দিতে পারে বলে তাঁরা শুনেছেন।
তবে বিআরটিএর সচিব মুহাম্মদ শওকত আলী বলেন, মালিকদের সক্ষমতা থাকলে বুয়েট থেকে যে মতামতই আসুক বিআরটিএর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে কোনো সমস্যা হবে না।




