202173

দিদি আমাদের কিছু করার নেই, এখান থেকে চলে যান

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র বলে কিছু নাই। বর্তমান দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু বিরোধী দল নয়, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে কোনো মানুষ আজ দাবি নিয়ে রাস্তায় নামতে পারে না।

প্রধার বিচারপতিকে কেন্দ্র করে দেশের আইন ব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে অচল। আইন শুধুমাত্র সরকারের ইশায়ার চলে। এর বাইরে আইনের কোনো ধারাই বহমান নাই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চলমান রাজনৈতিক সংকট, খালেদা জিয়ার সাজা ও পরবর্তী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিডি২৪লাইভের প্রতিবেদকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, পুলিশ, র‌্যাব, ডিবিসহ পুরো প্রশাসনটাই আজ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তারা আজ সরকারের বেড়াজালে আবদ্ধ। তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছে না।

দেশের রাজনীতিতে আর সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। ৮ ফেব্রুয়ারিকে মোকাবেলার জন্য ছাত্রলীগের ছেলেদেরকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। ওই দিন সারা ঢাকা শহর তারা মহড়া দিয়ে বেড়িয়েছে। প্রশাসনের সামনে হাজার হাজার মোটরবাইক নিয়ে তারা মহড়া দিয়েছে কিন্তু প্রশাসন তাদেরকে বাধা দেয়নি। প্রতিহত করেনি। ওই দিন আমরা নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ মিনার অবস্থান নিয়েছিলাম। আমাদেরকে দেখিয়ে প্রশাসনককে বলে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে। না হলে তারা ব্যবস্থা নিবে। তখন প্রশাসন আমাদের কাছে এসে অপারকতা প্রকাশ করে বলল দিদি আমাদের কিছু করার নেই। আপনারা এখান থেকে না সরলে ওরা (ছাত্রলীগ) আপনাদেরকে হেনস্তা করবে। তখন দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আমাদের কিছু থাকবে না। আপনারা সরে যান। তার মানে কি এই প্রশাসন ছাত্রলীগ, যুবলীগের কাছে জিম্মি।

তিনি বলেন, আমাদেরকে কোনঠাসা করে রাখছে। আমাদের নেত্রীকে জেলে নিয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিচ্ছি সেখানেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।

আমার এলাকায় আমি যাতে না ঢুকতে পারি সেইজন্য সেখানে, মিটিং করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ বলছে নিপুন যেন কোনো ভাবেই এলাকায় ঢুকতে না পারে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে লোক দিয়ে রাখছে আমাকে অপমান অপদস্ত করার জন্য। এজন্য কারো অনুমতি লাগবে না। এলাকার মন্ত্রী নাকি এমন নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে। এই যদি হয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট। আমি তো মেয়ে মানুষ একজন ছোট রাজনীতিবিদ আমার উপরই এই অবস্থা তো যারা শীর্ষ পর্যায়ে আছে তাদের অবস্থা কি তাহলে ভাবুন।

আমাদেরকে মাঠের বাইরে রেখে। দেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, আমাদের নেত্রীকে জেলে নিয়ে বাংলাদেশে এই প্রথম দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভা সমাবেশ করে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছে। তো এখানে গণতন্ত্র বলে থাকল কি? রাজনীতি বলে থাকল কি? সবকিছু তাদের ইচ্ছা মত করছে। গণতান্ত্রিক কোনো দেশ এটাকে ভালো চোখে দেখছে না।সরকার যদি এই অপকর্ম থেকে সরে না আসে তাহলে বাংলাদেশ ধ্বংস হতে সময় লাগবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নবীন এই নেত্রী বলেন, বিএনপি দীর্ঘ প্রায় দশ বছর ক্ষমতার বাইরে। এর মধ্যে সরকারের দমন নীতির কারণে আমাদের কোনো নেতাকর্মী আজ ঘরে থাকতে পারে না। খবর পেলে সাদা পোশাকে গিয়ে গ্রেপ্তার করছে। যদিও হাইকোর্ট থেকে নির্দেশ রয়েছে কাউকে সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না তারপরও এগুলো ঘটছে। তবুও যেকোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সকল নেতাকর্মী অনেক বেশী ঐক্যবদ্ধ। যার ফলেই লাখ নেতাকর্মীর উপস্থিতির মাধ্যমে ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারের ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে ম্যাডামকে আমরা আদালতে পৌঁছে দিয়েছি। সরকার জানে বিএনপি তৃনমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী সাংগঠনিকভাবে কতটা শক্তিশালী। যার কারণেই তো তাদের এতো ভয়।

তারা যদি বিএনপিকে ভয়ই না করে তাহলে কেন খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হবে? কেনই বা এত মামলা। এখন বিরোধী দল তো জাতীয় পার্টি তাহলে দাওনা তাদের নামে মামলা। সেটাকে না করে বিএনপিকে কেন ঘায়েল করার চেষ্টা করা হচ্ছে? তার মানে হলো তারা খুব ভালো করে জানে বিএনপি কতটা শক্তিশালী। যার শক্তি আছে তাকেই তো ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়।

শীর্ষ নেতাদের উপর তো জুলুম করছেই। তারপরও কি তৃণমূল ভেঙ্গে পড়েছে। বরং এখন আরও বেশী মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তো এখন জেলে তাই বলে কি কেরানীগঞ্জে সভা সমাবেশ হচ্ছে না? বরং এখন আরও বেশি হচ্ছে। তার অবর্তমানে আমি দেখছি আমিও যদি চলে যাই তাহলে আরেকজন দেখবে কারও জন্য তো দলের কার্যক্রম থেমে থাকবে না।

দলের চেয়ারপারসন দীর্ঘ কারাবাস ও সার্টিফাইড কপি পেতে বিলম্ব হয়েছে এতে আইনজীবীদের কি ব্যর্থতা রয়েছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার্টিফাইড কপি পেতে আইনজীবীদের গাফিলতি আছে কথাটা একেবারেই ঠিক না। যেখানে সরকার প্রধান সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে। যেখানে আমাদের আইনজীবীরা প্রতিদিনই কোর্টে দাঁড়িয়েই আছে চেষ্টা করেই যাচ্ছে তাহলে গাফিলতিটা কোথায়?

সার্টিফাইড কপি দেয়া না দেয়া পুরোটাই নির্ভর করে আদালতের উপর। ওই দিনই রায়ের পরেই তো ডকুমেন্টস নেয়ার জন্য পিটিশন করা হয়েছে। এখন এটা দেয়া না দেয়া তো পুরোটাই সরকারের হাতে চলে গেছে। এটা কিন্তু আদালতের হাতেও নেই। আদালত চাইলে কিন্তু দু’দিনের মধ্যেই দিতে পারতো। ১২ দিন লাগল কেন?

খালেদা জিয়াকে ছাড়াও বিএনপি নির্বাচনে আসবে এটা সরকারের ওপেনিয়ন মন্তব্য করে নিপুন বলেন, তারা ভাবছে ম্যাডাম কে জেলে নিলে বিএনপি নেতাকর্মীরা দুর্বল হয়ে যাবে। তাই তারা বিএনপিকে ভাঙ্গার জন্য অনেক আগে থেকেই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা পরিপূর্ণভাবে ব্যর্থ।

বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপি কোনা নির্বাচনে অংশ গ্রহন তো করবেই না, দেশে কোনো নির্বাচনই হবে না। এটা আমাদের ফুলস্টপ দেয়াই আছে। তাকে মাইনাস করে বা জেলে রেখে বাংলাদেশের মাটিতে কোনো নির্বাচন হবে না।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একেবারে নিম্ন থেকে সিনিয়র পর্যায়ে সকলেই ঐক্যবদ্ধ এবং তিনি প্রতিনিয়ত আমাদের নির্দেশন দিয়ে যাচ্ছেন এবং যখন যার ইচ্ছা তার সাথে সরাসরি কথা বলতে বলেছেন। তিনি সব সময়ই আমাদের টাচে আছেন।

সূত্র: বিডি২৪লাইভ

ad

পাঠকের মতামত