১২ মার্চ নয়, শাকিব-অপুর তালাক কার্যকর হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি
শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের তালাক কার্যকর হয়েছে, না হয়নি- এ নিয়ে বড় ধরনের একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ বিভ্রান্তির উৎস, শুক্রবার গণমাধ্যমে দেয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য।
তার বক্তব্যের সারকথা, ওই তালাক কার্যকর হবে ১২ মার্চ। কারণ শাকিব-অপুর তালাক বিষয়ে তৃতীয় ও শেষ শুনানি হবে আগামী ১২ মার্চ। তালাক কার্যকরের বিষয়ে সেদিন সবকিছু চূড়ান্ত হবে।
১২ মার্চ তালাক কার্যকরের ব্যাখ্যায় ওই কর্মকর্তা বলেন, অপু বিশ্বাস গত বছরের ১২ ডিসেম্বর তালাকের চিঠি হাতে পান। সে হিসেবে ৯০ দিন পূর্ণ হয় ১২ মার্চ। কমবেশি আমরা সবাই জানি, স্বামী বা স্ত্রীকে তালাকের লিখিত নোটিশ বা চিঠি দিলেই তা কার্যকর হয় না। সেটা হয় ৯০ দিন পর। বিভ্রান্তিটা ওই ৯০ দিন সময় গণনা নিয়ে। তালাক দিতে গেলে স্বামী বা স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ দিতে হয়। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রীকে নোটিশ প্রদানের সঙ্গে ওই ৯০ দিন সময় গণনার আইনানুগ কোনো সম্পর্ক নেই।
সেই সম্পর্ক ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার চেয়ারম্যান কিংবা সিটি করপোরেশনের মেয়রকে তালাকের নোটিশ প্রদানের সঙ্গে। যে তারিখে মেয়র বা চেয়ারম্যানকে নোটিশটা পাঠানো হচ্ছে, সেদিন থেকে ৯০ দিনের সময় গণনা শুরু হয়। কোন তারিখে স্ত্রী বা স্বামীকে নোটিশটা দেয়া হলো, কোন তারিখে তারা সেটা পেলেন- তা সময় গণনায় আইনের চোখে তা বিবেচ্য বিষয় নয়।
মাঝখানে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে রাত্রিযাপনের মাধ্যমে বা আপস-মীমাংসা বা অন্যভাবে তালাক প্রত্যাহার করা না হলে, চেয়ারম্যান বা মেয়রকে নোটিশ প্রদানের ৯০ দিন পর ওই তালাক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। তবে তালাক দেয়ার সময় স্ত্রী যদি গর্ভবতী হয়, সেক্ষেত্রে ৯০ দিন শেষ হলেও সন্তান ভূমিষ্ঠ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না।
আইনের বিধান মোতাবেক, ওই একটি কারণ ছাড়া, সিটি করপোরেশনের আপস-মীমাংসা বা তালাক বিষয়ে শুনানির জন্য বা অন্য কোনো কারণে, তালাক কার্যকর করণে ওই নির্দিষ্ট ৯০ দিন সময়সীমা কোনোভাবে, কোনো পরিস্থিতিতে বাড়ানোর সুযোগ নেই।
এবার আসা যাক, তালাক বিষয়ে সিটি করপোরেশনের (ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা-যেটা প্রযোজ্য) ভূমিকা প্রসঙ্গে। তালাক কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের কর্মকাণ্ড খুবই ক্ষীণ।
আইনের বিধান হলো, তালাকের একটি নোটিশ স্বামী বা স্ত্রীর কাছে যাবে। আরেকটি নোটিশ সিটি করপোরেশনের মেয়রের (ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা চেয়ারম্যান-যেটা প্রযোজ্য) কাছে যাবে। নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে করপোরেশন উভয়পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে সালিশি পরিষদ গঠন করবে এবং বিষয়টা আপস-মীমাংসার চেষ্টা করবে। তাদের ক্ষমতা বা দায়দায়িত্ব আপস-মীমাংসার উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ। তাদের উদ্যোগে পক্ষরা সাড়া দিতেও পারে, আবার না-ও নিতে পারে। তাতে কিছু যায় আসে না। ওই উদ্যোগে সাড়া দেয়া-না দেয়া, সালিশি পরিষদের সিদ্ধান্ত বা মতামত গ্রহণ বা বর্জন-পক্ষদ্বয়ের একান্ত ঐচ্ছিক বা ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে তাদের কাউকে বাধ্য করার আইনানুগ কোনো সুযোগ নেই। তালাক কার্যকর হওয়ার সঙ্গে এই উদ্যোগের সরাসরি কোনো সম্পর্কও নেই।
সিটি করপোরেশন যদি এখানে কোনো সমঝোতার উদ্যেগ না নেয় বা পক্ষরা যদি তাতে সাড়া না দেন, ৯০ দিন পর (পূর্ব উল্লিখিত সময় গণনা শেষে) তালাক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। তাই ‘শাকিব-অপুর তালাক বিষয়ে তৃতীয় ও শেষ শুনানি হবে আগামী ১২ মার্চ।
তালাক কার্যকরের বিষয়ে সেদিন সবকিছু চূড়ান্ত হবে’- এই বক্তব্যের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একই সঙ্গে অপু বিশ্বাসের নোটিশ পাওয়ার ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হওয়ার দাবিও আইনসম্মত নয়।
অপুকে পাঠানো তালাকের নোটিশে দেখা যায়, সেখানে তালাকের তারিখটি ‘২২ নভেম্বর ২০১৭’ উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া গণমাধ্যমেও শাকিবের আইনজীবী বলেছেন, শাকিবের পক্ষে ‘২২ নভেম্বর ২০১৭’ তারিখে তিনি অপুকে ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে তালাকের লিখিত নোটিশ প্রেরণ করেন।
আইনের বিধান মোতাবেক, ৯০ দিন সময় গণনা ওই ২২ নভেম্বরই শুরু হয়েছে। যেহেতু তালাকটি সমঝোতা বা অন্যভাবে প্রত্যাহার হয়নি, সে হিসেবে ‘২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮’ তারিখে ৯০ দিন (নভেম্বর ’১৭-এর ৮ দিন + ডিসেম্বর’ ১৭-এর ৩১ দিন + জানুয়ারি ’১৮-এর ৩১ দিন + ফেব্রুয়ারি ’১৮-এর ২০দিন = ৯০দিন) পূরণ হয়েছে এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখ শাকিব-অপুর তালাক কার্যকর হয়েছে। লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
সূত্র: যুগান্তর




