দেশবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর ‘তিন সুখবর’
সম্প্রতি ভ্যাটিকান সিটি ও ইতালি সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীর জন্য ‘তিন সুখবর’ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তথ্য প্রযুক্তির ‘ফোরজি’, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট উৎক্ষেপণ’ ও ‘কার্গো বিমানের ওপর ব্রিটেনের নিষেদ্ধাজ্ঞা প্রত্যাহার’- এ ‘তিন সুখবর’ তিনি তুলে ধরেন। আজ সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই সুখবর জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আজ থেকে ফোরজির যুগে প্রবেশ করেছি। আমরা ইতোমধ্যে ফোরজির নিলাম সম্পন্ন করেছি। আজ থেকে ফোরজির যুগে প্রবেশ করেছি। এ সময় আগামী মার্চ মাসের কোনো এক সময় বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট উৎক্ষেপণ হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনারা জানেন ব্রিটেন দীর্ঘদিন যাবৎ কার্গো পরিবহন নিষিদ্ধ করে রেখেছিল, এখন তারা তা তুলে নিয়েছে। এটাও আমাদের জন্য একটা সুখবর।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যারা আন্দোলন করছে, তাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কারো যোগ্যতা ছিল না? দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হওয়ার? যে একজন বিদেশ পালিয়ে থাকা ফেরারি আসামিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করতে হলো?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন দুর্নীতির অপরাধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছিল। দুর্নীতি মামলায় আমেরিকার এফবিআই এসে সাক্ষী দিয়ে গেছে তার দুর্নীতি। এমন একজন বিদেশে পালিয়ে থাকা ফেরারি আসামিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করতে হলো?
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে এখন যারা আন্দোলন করছে, তাদের কাছে একটা প্রশ্ন কারো যোগ্যতা ছিল না? দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হওয়ার? এর বেশি কিছু বলতে চাই না। কারণ আমরা কথা বললেই তো দোষ হয়।
খালেদা জিয়ার রায়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মামলা ১০ বছর চলেছে। সেখানে ৮০ বারের বেশি রিট করা হয়েছে এবং সময় নেয়া হয়েছে। জজের প্রতি তিনবার অনাস্থাও দিয়েছে। জজও পরিবর্তন হয়েছে। এতকিছুর পরও তিনি ৪৩ দিন কোর্টে উপস্থিত ছিলেন। তারপর তার সাজা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনার (খালেদা জিয়ার) প্রথম আইনজীবী রফিকুল হক সাহেব কিন্তু বলেছেন- টাকাটা দিয়ে দেন। তখন কিন্তু আর মামলাটা থাকতো না। টাকা দেননি। এতিমের টাকা খেলে শাস্তি আল্লাহও দেন, আদালতও দেন। আমাদের কিছু করার নেই। কিছু করার আছে?’
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির যেসব নেতারা দেশের অবস্থান করছেন, তাদের মধ্যে কি একজনও নেই, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের করা যেত। যাকে দায়িত্ব দেয়া হলো সে তত্ত্বাবধায়কের আমলে রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে বিদেশে চলে গেল। এফবিআইয়ের তদন্তের অপরাধী প্রমাণ হয়ে সে সাজাপ্রাপ্ত।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপিতে এখন যারা আছেন, তারা দেখছি খুবই কাজ করছে, খুব কর্মঠ। তাদের মধ্যেও কি একটা নেতা পাওয়া গেল না, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা যেত?’
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটিতে চার দিনের সরকারি সফর শেষে ১৭ জানুয়ারি শনিবার রাতে দেশে ফিরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) পরিচালনা পর্ষদের বার্ষিক বৈঠকে যোগ দিতে ইতালিতে যান। ইফাদ প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হুয়াংবোর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী এ সফরে যান।
ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান গুরু পোপ ফ্রান্সিসের আমন্ত্রণে ভ্যাটিকান সিটি সফরে যান শেখ হাসিনা। সেখানে পোপ ছাড়াও ভ্যাটিকান সিটির সেক্রেটারি স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো প্যারোলিনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।




