200337

‘খালেদার সাথে কারাগারে ফাতেমা, নজিরবিহীন ঘটনা’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখাশোনা করার জন্য আদালতের আদেশে কারাগারে আছেন তাঁর ব্যক্তিগত পরিচারিকা মোছাম্মৎ ফাতেমা(৩৫)। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির এভাবে কারাগারে থাকার এমন ঘটনাও নজিরবিহীন।

গতকাল বৃহস্পতিবার( ১৫ ফেবরুয়ারি) আদালতের নির্দেশে ফাতেমাকে বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে কারাগারে রাখা হয়েছে।

গত ৮ ফেবরুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ বাকিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

সাজার রায়ের পর পুলিশের গাড়িতে করে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে যান ফাতেমা। ওই দিন কয়েক ঘণ্টা তিনি সেখানে ছিলেন। কিন্তু নিয়ম না থাকায় বা ফাতেমা সঙ্গে রাখার ব্যাপারে আদালতের কোনো নির্দেশনা না থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে সেখানে রাখতে দেননি।

এরপর থেকে বিএনপির আইনজীবী ও নেতারা ফাতেমাকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাখতে না দেওয়ার সমালোচনা করেন।

গত মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বাইরের কাউকে রাখার নিয়ম না থাকায় ফাতেমা রাখার অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ।

গতকাল শুক্রবার(১৬ ফেবরুয়ারি) বিশেষ বন্দির সব মর্যাদাই খালেদা জিয়া পাচ্ছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এমনকি তার গৃহকর্মীকেও তিনি সঙ্গে নিয়ে আছেন, যেটা এদেশে নজিরবিহীন ঘটনা। এই সুযোগ বাংলাদেশের কেউ পায়নি।

জানা যায়, সাধারণত প্রথম শ্রেণির বন্দী বা ডিভিশন পাওয়া ব্যক্তিদের দেখভালের জন্য সাজা ভোগরত কোনো কয়েদিকে নিয়োজিত করা হয়। নারী বন্দীদের জন্য একজন নারীকে এবং পুরুষ বন্দীদের টুকটাক কাজের জন্য একজন পুরুষ বন্দীকে নিয়োজিত করা হয়। তবে আদালতের আদেশে যেকোনো কিছু করা যায়।

কারা বিধির ৯৪৮ বিধিতে বলা হয়েছে— ‘যখন কোনও কারাগারে মাত্র একজন নারী বন্দি থাকেন ও সেখানে যদি কোনও নারী কারারক্ষী না থাকেন, তাহলে জেল সুপার সেই বন্দির একজন পরিচিত নারীকে তার সঙ্গে কারাগারে থাকার অনুমতি দিতে পারেন। যদি ওই নারীর সঙ্গে থাকার জন্য এমন নিজস্ব কোনও নারী না থাকে, তাহলে জেল সুপার নিজেই একজন নারীকে সাময়িকভাবে কারারক্ষীর দায়িত্বে নিয়োজিত করে কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজন্স) অনুমোদন নেন।’

জানা যায়, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে রয়েছেন ফাতেমা। বিএনপির চেয়ারপারসন তাঁর দৈনন্দিন কাজের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই ফাতেমার ওপর নির্ভরশীল। দেশের ভেতর তো বটেই, দেশের বাইরেও খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকেন তিনি।

খালেদা জিয়ার পাশে সার্বক্ষণিক থাকা ফাতেমার প্রতি বেশিরভাগ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর জন্য অনেকাংশই নির্ভরশীল তিনি।২০১৫ সালে জানুয়ারি থেকে ৯২ দিন গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানের সময় খালেদা জিয়ার সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন ফাতেমা।

এর আগে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর যখন গুলশানের কার্যালয়ে থেকে খালেদা জিয়াকে বের হতে দেওয়া হচ্ছিল না ওই সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের পেছনে পতাকা হাতে দাঁড়ানো ফাতেমাকে নিয়ে অনেকেই কৌতূহল দেখান।

রায়ের দিন অথ্যৎ গত ৮ ফেবরুয়ারি গুলশানের বাসা থেকে ফাতেমাকে নিয়ে একই গাড়িতে করে আদালতে উপস্থিত হন খালেদা জিয়া। রায় পড়ার সময়ও তার সঙ্গেই ছিলেন ফাতেমা। আদালতের রায় পড়া শেষ হলে বিচারকরা কক্ষ ত্যাগ করেন। এর পর খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে, পরিচর্যার জন্য ফাতেমাকে তার সঙ্গে কারাগারে রাখার আবেদন জানান আইনজীবীরা।

এর আগে মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমকেও কিছুদিনের জন্য পারিবারিক জীবন থেকে দূরে থাকার মানসিক প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। রায়ের পর কারাগারে যেতে হলে গৃহকর্মী ফাতেমাকে সঙ্গে নেয়ার আবেদন জানাবেন বলেও জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আদালতের রায়ে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ বাকিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। বয়স বিবেচনায় খালেদা জিয়ার সাজা কমানো হয় বলে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত। কারাদণ্ডে পাশাপাশি সব আসামিকে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

রায়ের পর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। এরপর থেকে পরিত্যক্ত কারাগারে খালেদা জিয়াকে রাখার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটছে বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করে আসছেন বিএনপি নেতারা।

মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তার মধ্যে তিনজন পলাতক। তারা হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
সূত্র:বিডিমর্নিং

ad

পাঠকের মতামত