199741

প্রশ্নপত্র ফাঁস ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

বিচার বিভাগীয় ও প্রশাসনিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এসএসসি পরীক্ষা বাতিলসহ অনেকগুলো নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি যুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

রিটকারিদের একজন আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকা আমাদের সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি রুল জারি করেছেন। রুলে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রশাসনের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র, আইন সচিব ও সব শিক্ষাবোর্ডে চেয়ারম্যানসহ ২০জন বিবাদিকে ৩ সপ্তাহ’র মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গতকাল বুধবার এসএসসি পরীক্ষা বাতিলসহ অনেকগুলো নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন আইনুন নাহার সিদ্দিাকাসহ চারজন আইনজীবী।

এদিকে গতকাল পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে ব্যর্থতার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ। তাই তার ওই পদে থাকার অধিকার নেই। তাকে অপসারণ করে সংবিধানের ৫৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যিনি সংসদ সদস্য নন এমন একজন শিক্ষায় অসামান্য দক্ষ উচ্চ শিক্ষিত নাগরিককে শিক্ষামন্ত্রী করার কথা বলা হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৮ (১) (ক) (গ) (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন বা প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে অনুরোধ করবেন বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে ওই মন্ত্রীর নিয়োগের অবসান ঘটানোর পরামর্শ দেবেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এবারের চলমান এসএসসি পরীক্ষার দশ দিনের মধ্যে নয় দিনই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা, কোচিংসেন্টার বন্ধ, পরীক্ষার্থীদের আধাঘণ্টা আগে বাধ্যতামূলক হলে প্রবেশ এবং কেন্দ্রে মোবাইল ফোন না নেওয়া, ইন্টারনেটের গতি কমানো এত সব পদক্ষেপের কোনোটাই কাজে আসছে না। এভাবে একের পর এক প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নজিরবিহীন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ad

পাঠকের মতামত