‘নোংরা লাগছে, বাংলাদেশ টিমের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছে করছে না’
ক্রিকেট নিয়ে যে পর্যায়ে কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে তাতে করে আর বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বে থাকার ইচ্ছা নেই খালেদ মাহমুদ সুজনের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে সিরিজে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব হীনতার ময়না তদন্তের প্রয়োজনের কথাও বলে তিনি। সেই সাথে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাতীয় দলের এই টেকনিক্যাল ডিরেক্টর।
যে মাঠে এলিট ক্রিকেটে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার মতো দৈত্য বধ করেছে টাইগাররা। সেই মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুদ্রার উল্টো পিঠে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। তাই টিম ম্যানেজম্যান্টের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে ক্রিকেট আকাশে। সমালোচনার চাপ এক রকম ক্ষোভে পরিণত হয়েছে প্রধান কোচের ভূমিকায় থাকা খালেদ মাহমুদ সুজনের। তাই ভবিষ্যতে আর জাতীয় দলের দায়িত্ব না নেয়ার ঘোষণা দিলেন।
সুজন বলেন, ‘যেহেতু বাঙালি কেউ কাজ করলে সেটা সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমি এখনো এই দেশে টিকে আছি এটা সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশ হেরে যাওয়ার পরেও।’ তিনি আরোও বলেন, ‘আমার বাংলাদেশ টিমের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছে করছে না, নোংরা লাগছে জায়গাটা। সত্যি কথা বলতে কি এত বছর যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যে কাজ করেছি। আমি সব সময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্যে কাজ করেছি। এতে আমার কোন স্বার্থ নাই। ক্রিকেট বোর্ডে থাকাটাও কোন ব্যপার না।’
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুজন। কথা বলার এক পর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার কারণে আমাদের ক্রিকেট আটকে আছি কিনা সেটাও আমার প্রশ্ন। যখন আসে আমি আবাহনীর হেড কোচ মোসাদ্দেককে খেলায়নি এই কারনে যে আবাহনীতে খেলার জন্যে। যখন জাতীয় বিষয় নিয়ে এইভাবে কেউ কথা বলে তখন খুবই কষ্ট লাগে। আমার ক্রিকেট জ্ঞান কম নয়। ৮৩ সালে ক্রিকেট খেলা শুরু করছিলাম। আজ ২০১৮। চুলও পেকে গেছে। কে পারে কে পারে না কার কখন দরকার তা আমরা বুঝি।’
সুজনের মতে, ঢাকা টেস্টে ব্যাটসম্যানদের আন্তরিকতার ঘাটতি অনেক। তিনি বলেন, ‘আমাদের উইকেট প্রথমে তুলে নিয়েছে লাকমল, স্পিনাররা নেয়নি। কোন বলে আউট হয়েছি কি বলে আউট হয়েছি তা ময়নাতদন্ত করলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। কিন্তু আমি তা করবো না’ সুজনের এমন কথায় প্রবল একটা প্রশ্ন উঠতেই পারে? তা হলো। ঢাকা টেস্টের পর্দার আড়ালে ভিন্ন কোন গল্প লুকিয়ে আছে কি?
সূত্র: সময় টিভি




