দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ
নিউজ ডেস্ক : ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন দুই দিনের সফরে আগামীকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটায় ঢাকা আসছেন। দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারে উন্নীত করার লক্ষ্য ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও হাই প্রোফাইল বৈঠকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফেরত চাইতে পারে বাংলাদেশ। সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২০১৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডকে লেখা এক চিঠিতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এর আগে আদালতের পরোয়ানার কথা উল্লেখ করে তাঁকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে ব্রিটিশ সরকার এখনো সে অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া না দেওয়ায় লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানকে আবারো ফেরত পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
বরিস জনসন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সফরের সময়ে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে কার্গো অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টির চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলেও ধারণা করছেন কূটনীতিকরা। এছাড়া ব্রেক্সিট ও ভিসা ইস্যুটিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করবে ঢাকা। সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার কক্সবাজার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার জন্য যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সফরে আসছেন। আগামী এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথের সরকারপ্রধান পর্যায়ের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশ নেওয়ার বিষয়েও আসন্ন সফরে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে কমনওয়েলথে কাঠামো ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার দাবি তুলেছে।
সূত্র জানায়, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশেষ বার্তা আসতে পারে। যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে সোচ্চার। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ ইস্যুতে আলোচনার জন্যও যুক্তরাজ্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণসামগ্রী ছাড়াও ডিপথেরিয়া মোকাবেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দল পাঠিয়ে ছিলো দেশটি। প্রায় ১০ বছর পর যুক্তরাজ্যের একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর করছেন। এর আগে ২০০৮-এ যুক্তরাজ্যের তৎকালিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড ঢাকা সফর করেছিলেন।




