প্রস্তুত কেন্দ্রীয় কারাগার!
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হতে পারে। কারা অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। এদিকে বুধবার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশে নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে র্যাব ও পুলিশ। এছাড়া ওই এলাকায় জনসাধারণের চলাচলেও কড়াকড়ি করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার দুপুরের নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারের সামনে এবং এর আশপাশে র্যাবের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ সময় র্যাবের সিভিল টিমের সদস্যরা কারাগারের পুরাতন অভ্যর্থনা ভবনসংলগ্ন একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে সিসি ক্যামেরা লাগায়। র্যাবের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিও দেখা গেছে সেখানে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানায়, পুরাতন কারাগারসংলগ্ন এলাকায় জনসাধারণের চলাচলের ওপরেও কড়াকড়ি করা হয়েছে। এ বিষয়ে লালবাগ ডিভিশনের ডিসি ইব্রাহীম খান যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে আদালত এলাকা। আগে লাগানো সিসি ক্যামেরার সঙ্গে নতুন কিছু সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উপপরিচালক মেহেদী হানান যুগান্তরকে বলেন, কেবলমাত্র নাজিমউদ্দিন রোডে নয়, উদ্ভট পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র্যাবের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’
কারা অধিদফতরের একটি নির্ভরযোগ্যে সূত্র যুগান্তরকে জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার সাজা হলে তাকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখার সম্ভাবনাই বেশি। সেখানে একটি ভবনের দ্বিতীয়তলার ডে- কেয়ার সেন্টারটি ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে।
সূত্রটি বলছে, সেখানে অতিরিক্ত ১০ জন কারারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ভেতরে-বাইরে মিলে ২ জন ডেপুটি জেলারের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদের মধ্যে মহিলা জেলার কারাগারের ভেতরে এবং পুরুষ জেলার বাইরে অবস্থান করবেন।
সূত্রটি জানায়, সেখানে রাখা হলে সব দিক থেকেই ভালো হবে। কেননা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও বেশকিছু মামলা রয়েছে। সেখান থেকে তাকে আদালতে আনা -নেয়ার কাজও সহজ হবে।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আজ ৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে।
উৎসঃ যুগান্তর




