197149

এক গল্পে একাধিক ছবি!

বিনোদন ডেস্ক।। গত বছরের শেষ দিকে মুক্তি পেল ‘চল পালাই’। ছবিটি বলিউড ছবি ‘রোড’র নকল। হাস্যকর হলো, সিনেমাটি এর আগে একবার হুবহু নকল হয়েছে। এক যুগ আগে অশ্লীল ছবি ফিরোজ খান প্রিন্স পরিচালিত ‘প্রেমিকা ছিনতাই’ হিন্দি ‘রোড’ ছবির গল্প চুরি করে তৈরি হয়েছিল। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন রুবেল। এই একটি ছবি এপাশ ওপাশ করে একাধিক সিনেমা হয়েছে বাংলাদেশে। যদি সরাসরির হিসেব করা হয় তাহলে ‘রোড’ সিনেমাটি থেকে এ দুটি সিনেমা।

হাস্যকর এই কাহিনী এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বহু বিদেশী গল্প অনুকরণ করে একাধিক ছবি নির্মাণ করেছে বাংলাদেশি নির্মাতারা। ২০১৫ সালে যৌথ প্রযোজনার ছবি অঙ্কুশ-ফারিয়া অভিনীত ‘আশিকী’ মুক্তি পেলে দেখা যায়, একই গল্পে বাপ্পি-মিষ্টি অভিনীত ‘লাভ স্টেশন’ ছবিটি আগেই তৈরি হয়েছে।দুটি ছবি আবার ‘ইশক’ নামে ভারতের দক্ষিণী এক ছবির নকল। বাংলা ছবি দুটির একটিও ব্যবসা করতে পারেনি।

জাজ মাল্টিমিডিয়া আবার একধাপ এগিয়ে। জাজ মাল্টিমিডিয়ার ‘অন্যরকম ভালোবাসা’ ছবিটি মুক্তি পায় ২০১৩ সালে। বাপ্পি-মাহি অভিনীত ছবিটির গল্প নিয়ে একই প্রযোজক ২০১৬ সালে তৈরি করেন ‘হিরো ৪২০’। দুটি ছবিই তেলেগু ‘মাসকা’ ছবির নকল।

২০১৫ সালের অঙ্কুশ-মাহি অভিনীত ‘রোমিও বনাম জুলিয়েট’র গল্পের সঙ্গে মিলে যায় বাপ্পি-মাহি অভিনীত ২০১৪ সালের ছবি ‘হানিমুন’র গল্প। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে দুটি ছবি মুক্তি পায়। দুটি ছবিই পাঞ্জাবি ছবি ‘সিং ভার্সেস কৌর’ থেকে নেয়া। অবাক করা বিষয় হচ্ছে একই চরিত্রে মাহিও দুবার অভিনয় করেছে। একই চরিত্রে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির দুবার অভিনয়ের ঘটনায় সবাই তাজ্জব বনে যান। অবাক হোন প্রযোজকের একই গল্পে দুবার টাকা ঢালায়ও।

২০১৩ সালের যৌথ প্রযোজনার ছবি, অঙ্কুশ-শুভশ্রী অভিনীত ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ তেলেগু ছবি ‘আরিয়া’র রিমেক। ছবিটির গল্প মৌলিক না হলেও দীর্ঘদিন পর যৌথ প্রযোজনার ছবি বলে চুটিয়ে ব্যবসা করে। একই গল্প চুরি করে তৈরি ২০১৫ সালের ছবি ‘আজব প্রেম’। ছবিটি মোটেও ব্যবসা করতে পারেনি।

মান্না-শাবনূর-পূর্ণিমা অভিনীত ‘স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ’ এবং শাকিব খান-শাবনূর-নিপুণ অভিনীত ‘আমার প্রাণের স্বামী’ সুপারহিট দুটি ছবি। দুটি ছবিই বলিউডের ‘লাডলা’ ছবির নকল। মান্না প্রযোজিত-অভিনীত ‘আমি জেল থেকে বলছি’ এবং শাকিব খান অভিনীত ‘নিষ্পাপ কয়েদী’ একই গল্প থেকে তৈরি। দুটি ছবি কাছাকাছি সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত। সেন্সর বোর্ডও মুক্তি দিয়েছে।

তারও আগে গেলে ‘সাগরিকা’ এবং ‘রাঙা বউ’ তে নাম ভুমিকায় অভিনয় করেছিলেন ঋতুপর্ণা। সঙ্গে নায়ক ছিলেন আমিন খান। দুটি ছবি বলিউডের ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবি থেকে পুরোপুরি প্রভাবিত। দুটি ছবি কিন্তু একমাসের ব্যবধানে মুক্তি পেয়েছে!

ইলিয়াস কাঞ্চন-রাজিব অভিনীত ‘স্নেহের প্রতিদান’ মুক্তির প্রায় পনেরো বছর পর মুক্তি পায় অমিত হাসান প্রযোজিত-অভিনীত ‘কে আপন কে পর’ দুটি ছবির গল্পে কোনো অমিল নেই। আশির দশকের হিন্দি ছবি ‘স্বর্গ’ অবলম্বনে দুটি ছবির গল্প তৈরি। একই গল্পে নায়করাজ রাজ্জাকও ওপারের একটি ছবিতে অভিনয় করেছেন।

অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা হারিয়ে যাচ্ছে। সেসব সিনেমার রিমেক হয় না। সে গল্প আরেকদিন বলা যাবে। কিন্তু একই সময়ে একই গল্পে দুটি সিনেমা নির্মাণ রীতিমতো হাস্যকর। সেসব সিনেমা আবার ভিনদেশী সিনেমার হুবহু কপি!

এসব ছবি যে খুব ব্যবসা করছে এমনটা নয়। যতই সুপারহিট গল্প হোক, ব্যবসায়িক সফলতা নেই বললেই চলে। কিন্তু তাকে কী! নকলপ্রীতি যে থামছেই না। এসব ছবি নির্মাণ মেধার দৈণ্যতা ছাড়া কিছু নয়।

উৎস: বাংলা ইনসাইডার

ad

পাঠকের মতামত