২ হাজার টাকাতেই মিলছে এসএসসি’র প্রশ্ন, কি দরকার ২ বছর পড়াশোনার ?
আগের কয়েক বছরের মতো এবারও এসএসসি পরীক্ষায় লাগাতার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় হতাশ শিক্ষার্থীরা। আর এ কারণে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর হাতেই পাঠ্যপুস্তকের জায়গায় প্রাধান্য পাচ্ছে মোবাইল ফোন। এর মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন সহজেই পেয়ে যাচ্ছে তারা। এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি গণমাধ্যমে বারবার তুলে ধরায় প্রশ্ন ফাঁসকারীরা গণমাধ্যমের নিউজগুলোকে বিজ্ঞাপন হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশাসন চাইলে সহজেই প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ধরতে পারে।
নীলা এবারের এএসসি পরীক্ষার্থী। আগামীকাল তার ইংরেজি ১ম পত্র পরীক্ষা। তাই পড়ার টেবিলে মনযোগী সে। তবে তার মনোযোগ বইয়ের চাইতে বেশি মোবাইল ফোনে। কেননা মোবাইল ফোনে ফেসবুকের মাধ্যমেই সকাল থেকেই রাকিব নামের এক প্রশ্ন ফাঁসকারী আগামীকালের পরীক্ষার প্রশ্ন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যার জন্য মাধ্যমিক এই পরীক্ষার্থীর উদ্বিগ্নতা।
নীলা বলে, ‘কিছু পড়া লাগে নাকি? প্রশ্ন পাবো। প্রশ্ন পেয়েই ১০মিনিটেই দিয়ে দিবো। দরকার হলে আরো দশ মিনিট পরে যাবো।’
শুধু নীলাই নয় তার মতো অনেক পরীক্ষার্থীর মধ্যেই লাগাতার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় অনীহা দেখা দিয়েছে পড়ালেখার প্রতি। তাদের মতে, সহজে পাস করার এ রীতি ভেঙে দিয়েছে তাদের মনোবল সেই সাথে ভেঙে পড়ছে শিক্ষার মানও।
বর্তমান যুগটা যখন বিজ্ঞানের যুগ। আমরাও মোবাইলে আসক্ত হয়ে গেছি। তাই মোবাইলে প্রশ্নের খোঁজার ব্যাপারটা থেকে যায়।’
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে নিউজ প্রচার হলে সেটি ব্যবহার করে নিজের আত্ন প্রচারণা চালাচ্ছেন নিজের পরিচয় দেয়া প্রশ্ন ফাঁসকারী ফাহিম হোসেন। সময় নিউজ টিম তার সাথে ছদ্ম পরিচয়ে যোগাযোগ করলে ২০০০ টাকার বিনিময়ে আজকের মধ্যেই এ প্রতিবেদককে ইংরেজি প্রথম পত্র প্রশ্ন দিতে রাজি হন তিনি
এদিকে প্রশাসন থেকে বারবার প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও প্রশ্ন ফাঁসকারীকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী তবে প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, দেশের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের এই চক্রকে ধরা প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত সহজ ব্যাপার।
প্রযুক্তিবিদ বলেন, ‘এটা আমরা ধরতে পারছি না, এটা আমাদের প্রশাসন থেকে শুরু করে সবার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয়। যারা এই প্রশ্ন ছাপানো থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত কাজ করছে তারাই এ কাজ করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা এভাবে করেন, তাদের কোন না কোনভাবে ট্রেস করার সিস্টেম রয়েছে।’
প্রতিবারের মত এবারও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় নানা পদক্ষেপ যার মধ্যে কোচিং সেন্টার বন্ধ করার নির্দেশও ছিল তবে কে শোনে কার কথা তার কোন তোয়াক্কা না করেই এখনও পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকদের নির্দেশ মতো ছুটছেন কোচিংয়ে।
সমালোচকরা মনে করছেন, বারবার অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি এ ধরনের অপরাধের প্রতি উদ্বুদ্ধ করছে অপরাধীদের । তবে এভাবে চলতে থাকলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অচিরেই ভেঙে পড়বে সেই সাথে কোমলমতি এ শিক্ষার্থীরাও ধাবিত হবে অনৈতিক পথে।
সূত্র: সময় টিভি




