196343

গফরগাঁওয়ে প্রবেশপত্র পায়নি অর্ধ শতাধিক পরীক্ষার্থী

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদের ফাঁদে পড়ে অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শুরুর পূর্বে ও পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

জানা যায়, উপজেলার রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ প্রতিবছর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগত শিক্ষার্থী এনে ‘পাশ করিয়ে দেওয়ার’ লোভ দেখিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তার বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। প্রতিবছর কিছু শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আটকে যাওয়াসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়।

এ নিয়ে প্রতিবছর পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ পেলেও রহস্যজনক কারণে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদের বিরুদ্ধে আইনি বা বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় বহিরাগত শিক্ষার্থী আনতে না পারলেও গফরগাঁও উপজেলার উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৬ জন, রৌহা গ্রামের বেশ কয়েকজনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৫৩ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে নিয়ে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণ করান। কিন্তু রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র এলেও উল্লিখিত অর্ধ শতাধিক পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসেনি।

এ নিয়ে প্রবেশপত্র না পাওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হলে বুধবার বিকেলে, আজ বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শুরুর পূর্বে এবং পরীক্ষা চলাকালে গফরগাঁও ইসলামিয়া সরকারি হাইস্কুল এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে, সরকারি কলেজ কেন্দ্রের বাইরে ও গফরগাঁও থানা গেইটের সামনের সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় জান্নাত নামে প্রবেশপত্র না পাওয়া এক শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, তারা কেউ পরীক্ষার প্রবেশপত্র পায়নি। তাদের নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। শিক্ষকরা সবাই মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছেন।

এদিকে, এলাকাবাসী জানায়, রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ তার বসতঘরের জিনিসপত্রসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে গেছেন।

উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন সুলতানা পপির মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মারুফ আহমেদ তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে রেখেছেন।

গফরগাঁও থানার ওসি আব্দুল আহাদ খান বলেন, প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছরই মারুফ আহমেদ এই অপকর্মটা করে। এ বিষয়ে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে ডিসি স্যার ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি আমরা সিরিয়াসভাবে নিয়েছি। প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ‌ওই শিক্ষকের এমপিও বাতিল করার সুপারিশ করা হবে।’

ad

পাঠকের মতামত