দেহব্যবসার জন্য যুবতীকে অপহরন, এরপর যা হল…
মধুচক্রের জন্য অপহরণ, সেজন্যই পাচারের ছক কষেছিল অপহরণকারীরা৷ সেইমতো মহিলাকে অপহরণও করা হয়৷ তবে মুক্তিপণ নিতে গিয়েই ছক ভেস্তে গেল৷ পুলিশের জালে ধরা পড়ল অপহরণকারীরা৷
গত ২১ তারিখ কেএলসি থানা এলাকার মৌশাল গ্রামের বাসিন্দা এক গৃহবধূ ও তার ছেলে নিখোঁজ হয়ে যান৷ গৃহবধূর বাবার নাম অরুণ মন্ডল৷ ওই গৃহবধূ বাপের বাড়ি এসেছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন৷ বিকেলে তাঁর ছেলে খেলতে বেরোয়৷ সঙ্গে তিনিও ছিলেন৷ কিন্তু পরিবারের অভিযোগ বিকেলে বেরোনোর পর আর ফেরেনি
মা ও ছেলে৷ মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে দেখা যায়, সেটি বন্ধ৷ কেএলসি থানায় অভিযোগ দায়ের করে পরিবার৷
গত ২৭ তারিখে অরুণ মন্ডলের মোবাইলে তার নিখোঁজ মেয়ের নম্বর থেকে ফোন আসে৷ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়৷ তবে অপহৃতাকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়নি৷ এরপরেই থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ পুলিশ আধিকারিকদের একটি বিশেষ দল তৈরি করা হয় তদন্তের স্বার্থে৷ যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, সেটিকে ট্যাপ করে নজরদারির ব্যবস্থা করে পুলিশ৷ ৷
মুক্তিপণ দিতে যায় অপহৃতার পরিবার৷ শিয়ালদা স্টেশন চত্ত্বরে টাকা দেওয়ার স্থান নির্ধারিত করা ছিল৷ তারই চারপাশে পুলিশও পাহারায় ছিল৷ সেই মতো টাকা নিতে যেতেই অপহরণকারী যতন চক্রবর্তীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ রবিবার বেলা তিনটে ১০ নাগাদ গ্রেফতার করা হয় তাকে৷ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই পুলিশ জানতে পারে অপহৃতদের কালনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷
সেইমতো পুলিশের একটি দল কালনা যায়৷ চকবাজার এলাকা থেকে রবিবার রাতেই সন্তোষ আগরওয়াল নামে একজনকে গ্রেফতার করে৷ তার বাড়ির দোতলায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল দুজনকে৷ পুলিশ সূত্রে খবর ওই বাড়িতে নিয়মিত মধুচক্রের আসর বসত৷ সেখানেই বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ধৃতদের৷ সোমবার তাদের বারুইপুর আদালতে তোলা হবে৷ অপহৃতার গোপন জবানবন্দীর আবেদন করেছে পুলিশ৷




