195247

সংসার সুখের হয় ‘বোঝাপড়া’র গুণে

বিনোদন ডেস্ক।।
ডাক্তার ছেলে সাধারণত বিয়ে করার জন্য কোনো ডাক্তার মেয়েই খোঁজে। কারণ, দিনরাত যেকোনো সময় ঘরের বাইরে থাকতে হতে পারে। অন্য পেশার কাউকে বিয়ে করলে হয়তো সে বুঝবে না। ডাক্তার মেয়েরাও তেমনটাই খোঁজে।

মূল প্রসঙ্গে আসি, শোবিজে ভাঙ্গা গড়া এখন নিয়মিত হয়ে গেছে। নিয়ম করে ঘর ভাঙ্গছে বা গড়ছে। যখন শোবিজের কারও বিয়ের খবর হয়। সাধারণ মনে প্রশ্ন জাগে কতদিন টিকবে? বিপরীতে ঘর ভাঙ্গার খবরে অনেকে হাস্যরসাত্নক ভাবে নানা মন্তব্য ছুড়ে দেয়। শোবিজ নিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা হচ্ছে।

শোবিজ খারাপ। এমন বিশেষণ দেওয়ার সময় সাধারণ মানুষ যে কয়টি বিষয় টানবেই তা হলো এখানকার সংসার টিকে না। কেন টিকে না? নানা উত্তর আসে। কেউ বলে শোবিজ অঙ্গনের সঙ্গে বাইরের মানুষ সংসার করতে পারে না। কেউ বলে একই অঙ্গনের দুজন মানুষ থাকতে পারে না। বাস্তবিক কী?

যদি উদাহরণ টানতে হয়। ২০০৪ সালে প্রেমে পড়ে তাহসান-মিথিলা। দুজনেই তখন সবে শোবিজ অঙ্গনে পা রেখেছে। পরিচয়টা হয়েছে শোবিজের বাইরে থেকেই। তখনও একসঙ্গে কোন কাজ করা হয়নি। ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট প্রেমের সম্পর্কের ইতি টেনে বিয়ে করেন তারা। সংসারে যোগ হয় আইরা তাহরিম নামে তাদের একমাত্র কন্যা। গত বছর এ সংসারের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ঘটান। তাদের সংসারের বয়স ছিল ১১ বছর। তারা একসঙ্গে বহু নাটকে অভিনয়ও করেছেন। জনপ্রিয় এ জুটির ভাঙ্গনকে অনেকেই সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি।

যদি হিসেব করা হয়, গত বছর তাহসান- মিথিলার সঙ্গে আরও কয়েকটি সেলিব্রেটি সংসার ভেঙ্গেছে। এর মধ্যে অন্যতম শাকিব-অপু, শখ-নিলয়,স্পর্শিয়া-রাফসান,মিলা-সানজারি, হাবিব-রেহান,নোভা-রায়হান,বাঁধন-ব্যবসায়ী মাশরুর ও সর্বশেষ এ বছরের শুরুতে বিন্দুর ঘর ভেঙ্গেছে।

এ লম্বা লাইন থেকে যদি হিসেবে করতে যান। তাহলে জুটির দুজন স্ব-মাধ্যমের কিনা সেটা বিষয় নয়। বোঝাপড়াটাই মূল বিষয়।

বোঝাপড়া অনেক বিস্তারিত একটা বিষয়। কে কাকে কতটা বুঝে সে হিসেবে যাওয়া সম্ভব নয়। বিচ্ছেদের পরে অনেক দম্পত্তির কাছেই কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। সবারই প্রায় একই উত্তর ছিলো বোঝাপড়াটা ছিল না। অনেক তারকা শোবিজের বাইরের কাউকে বিয়ে করেন। কারণ শোবিজের প্রতি নাকি তাদের পরিবারেরও বিশ্বাস নেই। অনেক তারকা কাজ করতে গিয়ে সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। কিন্তু সংসার যেভাবেই যার সঙ্গেই শুরু হোক। যুগযুগ ধরে সেই সম্পর্কের স্থায়ীত্ব হয় কয়টা?

দুভাবেই সুখের সংসারের উদাহরণ রয়েছে। যেমন রয়েছে আলী যাকের- সারা যাকের, তৌকির-বিপাশা, মৌ- জাহিদ হাসান, রামেন্দু মজুমদার-ফেরদৌসী মজুমদার,নাঈম-শাবনাজ,ওমর সানি- মৌসুমী, মীর সাব্বির-ফারজানা চুমকি। এই সব জুটির দুজনেই শোবিজের। তারপরও একে অন্যকে বুঝে এতটা বছর কাটিয়ে দিয়েছেন।

তেমনি শোবিজের বাইরের রাজ রাজ্জাক, সোহেল রানা, ববিতা, ফারুক, আসাদুজ্জামন নূর, নোবেল, নিশো, অপূর্ব, কুসুম শিকদার, মাহিয়া মাহি, সুমাইয়া শিমু, চঞ্চল চৌধুরি, আফজাল হোসেন সহ আরো অনেক জনপ্রিয় তারকা শোবিজের বাইরের কাউকে বিয়ে করে দীর্ঘদিন ধরে সুখের সংসার করছেন।

মূল কথা হলো, পরস্পরের সাহচর্য উপভোগ করতে শিখতে হবে। সংসার যেন কারও হাঁসফাঁস করার মতো বা বিষণ্ন হয়ে পড়ার মতো না হয়ে ওঠে। সংসার বা ঘর হবে এমন, যেখানে পা দেওয়া মাত্র পৃথিবীর সমস্ত জঞ্জাল, জীর্ণতা আর বিষণ্নতা ভুলে গিয়ে শান্তি, স্বস্তি ও সৌহার্দ্যে মনটা ভরে উঠবে।

আমরা হয়তো হারিয়েছি অনেক, হেরেছিও অনেক। প্রত্যেকের জীবনেই আছে এসব পরাজয়, ক্লান্তি আর দীনতার গল্প। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস আমরা কিছুতেই হারাতে চাই না। হারাতে চাই না মায়ের কোমল হাতের পরশ, বাবার চশমার ফাঁকে স্নেহময় চোখ, হারাতে চাই না একসঙ্গে আড্ডা দিতে বসে হো হো করে হেসে ওঠা, ঝুমবরষায় বৃষ্টি দেখে দেখে একসঙ্গে মুড়ি-চানাচুর খাবার স্মৃতি; চাই না হারাতে ঈদে-নববর্ষে-জন্মদিনে হাত পেতে নেওয়া বড়দের আশীর্বাদ; আমরা হারাতে চাই না আকাশের ভেতরে যে আরেক আকাশ আছে—আমাদের ঘর, আমাদের সংসার। কেননা, এটাই আমাদের আসল আকাশ, আসল আশ্রয় ও ঠিকানা। উৎস: বাংলা ইনসাইডার

ad

পাঠকের মতামত