194920

সড়কে গাছ ফেলে ইবি ভিসির ওপর হামলা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-উর রশিদ আসকারীর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত তিনটা ৪২ মিনিটের দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দাহ গ্রামে সড়কে গাছ ফেলে দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালায়। শুক্রবার ভিসি হারুন-অর রশিদ সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব তথ্য জানান। ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘আমি মৃত্যু বিভীষিকা দেখেছি। আল্লাহ আমাকে প্রাণে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।’

ঘটনার বর্ণা দিতে গিয়ে ভিসি জানান, ঢাকা থেকে রাত ১০টার দিকে ব্যক্তিগত সহকারী রেজাউল করিমসহ গাড়িতে (কুষ্টিয়া ঘ ১১-০০২৮) ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা দেই। ঝিনাইদহ শহরে রেজাউল করিমকে বাসায় রেখে ক্যাম্পাসে আসছিলাম। রাত আনুমানিক তিনটা ৪২ মিনিটের দিকে বড়দাহ এলাকায় পৌঁছলে সড়কে গাছের গুড়ি দেখতে পান চালক ফরহাদ হোসেন। পরে গাড়ি নিয়ে পেছনের দিকে গেলে কয়েকটি ট্রাক সড়কে দাঁড় করানো পাওয়া যায়। ফলে, গাড়ি পেছনে নেয়া সম্ভব হয় না।

এ সময় মাফলারে মুখ বাঁধা তিনজন আমার গাড়িতে রাম দা দিয়ে উপর্যুপুরি আঘাত করে। এতে গাড়ির বাম দিকের সামনের ও পেছনের দুটো গ্লাস ভেঙে যায়। চালক পুনরায় সামনের দিকে দ্রুত গতিতে গাড়ি টান দেন। এতে দুর্বৃত্তরা কিছুটা পেছনে পড়ে যান। গাছের গুড়ির কাছে গিয়ে তা পার হবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন চালক।

হারুন-অর রশিদ জানান, এক পর্যায়ে চালক ফরহাদ হোসেন আমাকে গাড়ি থেকে নেমে পালাতে বলেন। আমি গাড়ি থেকে নেমে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে আশ্রয় নেই। দুর্বৃত্তরা গাড়ির কাছে এসে আমাদের না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করেন। জঙ্গলে টর্চ লাইট দিয়ে খুঁজতে থাকেন। তারা পাশের জঙ্গলে আমাকে খুঁজে পায়। আমি তাদের অস্ত্রের মুখে আল্লাহর নাম নিতে থাকি। আমাতে পেয়ে গাড়ির কাছে ধরে নিয়ে আসা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা আমার কাছে টাকা চান। কিন্তু, মানি ব্যাগ ও মোবাইল ফোন খুঁজে না পাওয়ায় ল্যাপটপটি তাদের হাতে তুলে দেই। তারা টাকা না পেয়ে ল্যাপটপ রেখে ‘এখান থেকে এক পা নড়বি না’ বলে পেছনের দিকে চলে যায়।

কিছুক্ষণ আমি গাড়িতে বসে থাকি। পরে নেমে আবার রাস্তার সামনের দিকে সোজা দৌড়াতে শুরু করি। কিছুদূরে গিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় চাই। পরে বাড়ির মালিক পাশের বাড়ির একজনকে ডেকে আনেন। ওই ব্যক্তি আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক-প্রশাসন বিভাগের শাখা কর্মকর্তা ফজলুল করিমের বাড়িতে নিয়ে যান। ফজলুল করিম প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে ঘটনা জানান। পরে ভোর চারটা ৫৪ মিনিটে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশের গাড়িতে ক্যাম্পাসের বাসভবনে আসি।

ঘটনার বর্ণনাকালে তিনি আরো বলেন, ‘আমি মৃত্যুর বিভীষিকা দেখেছি। মনে হলো, আজই জীবনের শেষ দিন। আল্লাহর অশেষ রহমতে রক্ষা পেলাম।’

এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের জোর দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি, জিয়া পরিষদ, শাখা ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, ইংরেজি, বিভাগ ও লোক প্রশাসন বিভাগ।

ভিসির গাড়ির চালক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সড়কে ফেলা গাছের গুড়ি পার হতে প্রাণপন চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু, তা অসম্ভব হওয়ায় স্যারকে পালাতে বলেছি। স্যার পালানোর পর আমি অন্যদিকে পালিয়ে যাই এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে ফোন করি। পরে পুলিশ আসলে আমি গাড়ির কাছে আসতে সক্ষম হই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনা জানার পর কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের হেফাজতে ভিসি স্যারকে ক্যাম্পাসের বাসভবনে নিয়ে আসা হয়।’

ঘটনা তদন্ত করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি রতন শেখ বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে স্যারকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসের বাসভবনে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।’

ad

পাঠকের মতামত