194272

কেমন আছেন নায়ক রাজের লক্ষী?

বিনোদন ডেস্ক : জন্মদিনে পরিবারের কাছে একটি কথাই বলতেন, ‘আমার কিন্তু বয়স বেড়ে যাচ্ছে। জানি না আমার কবে ডাক আসবে? আমার তো দিন ফুরিয়ে আসছে।’ সত্যিই একদিন হারিয়ে গেলেন।

নায়ক রাজ রাজ্জাকের কথা বলছি। গত বছরের ২১ অগাস্ট ৭৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক। আজ ২৩ জানুয়ারি ৭৭তম জন্মদিন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি এ অভিনেতার।

তাঁকে ছাড়া প্রথমবারের মতো জন্মদিনটা কাটবে পরিবারের। রাজাহীন রাজ্য কেমন আছে? নায়করাজকে ছাড়া এবার জন্মদিনটাও পালন করতে হবে পরিবারকে। নায়করাজের জন্মদিন মানেই ইন্ডাস্ট্রিতে উৎসবের ধুম পড়ত একসময়। নির্মাতা-অভিনেতা শ্যুটিংয়ের ক্যামেরা বন্ধ করে ভিড় করতেন লক্ষ্মীকুঞ্জে। অনেক সময় তিন-চারদিন ধরে শুধু তাঁর জন্মদিনের আয়োজনই হতো।

এবারের জন্মদিনটা যেন রঙহীন। সাদামাটা আয়োজনে দিনটি কাটাবেন পরিবারের সদস্যরা। এফডিসির ফজলুল হক অডিটোরিয়ামে পরিচালক সমিতির আয়োজনে নায়করাজের জন্মদিন পালন করা হয়। তার কবর জিয়ারত করতে অভিনয়শিল্পীরা ভিড় করেন।

রাজ্য হয়তো তার মতো করে চলছে। রাজা চলে যাওয়ার পর রানী কেমন আছেন? নায়ক রাজ রাজ্জাকের স্ত্রী খায়রুন্নেসা লক্ষীর কথা বলছি, রাজার উপর বুকভরা অভিমান নিয়ে অনেকটা নীরবে-নিভৃতে দিন কাটছে। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় একসঙ্গে কাটিয়েছেন তারা। সুখে-দুঃখে, জীবন সংগ্রামে, শরণার্থী শিবিরে, ঠাঁইহীন ঢাকার রাজপথে কিংবা ক্যারিয়ারের বর্ণিল সময়েও পাশাপাশি থেকেছেন দু’ জনে। মৃত্যুই দু’জনের মাঝে কাঁটাতার এঁকে দিল।

সেদিন দুপুরে মাছের ঝোল রেঁধেছিলেন স্ত্রী লক্ষ্মী। খেতে খেতে নায়করাজ রান্নার তারিফ করে বলেছিলেন, ‘দারুণ রেঁধেছ। রাতেও আমার জন্য মাছ রেখো তো।’ বাটি ভর্তি মাছ ফ্রিজে রেখে স্বামীর অপেক্ষায় ছিলেন লক্ষ্মী। কিন্তু সে রাতে ঘরে ফেরেননি রাজ্জাক। চিরদিনের জন্য তাঁকে অপেক্ষায় রেখে পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।

প্রিয়জনকে ছেড়ে ভালো নেই স্ত্রী লক্ষী। কতশত জমানো স্মৃতি আগলে বেঁচে আছেন। বড় ছেলে বাপ্পারাজ জানালেন,‘বেশিরভাগ সময়ই চুপচাপ থাকেন তিনি। কথাও খুব কম বলেন। তবে আমরা কিছুতেই মাকে একা থাকতে দেই না।’

ছোট ছেলে সম্রাট বলেন,‘ আম্মার সঙ্গে আমি আর আমার স্ত্রী থাকি। বড় মেয়ে আম্মার সঙ্গেই ঘুমায়। ছোট মেয়েটা সারাদিনই আম্মার সঙ্গে থাকে। কোনোভাবেই ওনাকে একা থাকতে দিই না। উনাকে হাসিখুশি রাখতে চাই।”

জীবনের শেষ দিনগুলো নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করতেন রাজ্জাক। ক্যারিয়ারে যখন তুমুল ব্যস্ত ছিলেন তখনও দিনভর কাজ শেষে বাড়ি ফিরে সবার সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিতেন।

বাপ্পা বলেন, ‘আমাদের সবই আছে কিন্তু আত্মাটা নাই। বাবাই ছিলেন আমাদের আত্মা। গত পাঁচমাস ধরে কোনও কাজে মন বসছে না। অফিসে যাই, বাসায় ফিরি। কোথাও যাই না। কোনও দাওয়াতে যেতে ইচ্ছা করে না। জীবনটা সাদাকালো হয়ে গেছে। আমাদের পরিবারে আর সেই আনন্দ ফূর্তি দিন-রাত আড্ডাটা আর আসবে না’।

দুই ছেলেই বললেন, ‘আমরা পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়ার রেওয়াজ। বাসায় থাকলে সবাই একসঙ্গে বসে খাই। ঢাকায় থাকলে একজন আরেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে খেতে বসতাম। এখন আর তা হয় না।’

জীবদ্দশায় নায়করাজ শেষ জন্মদিন পালন করেছেন ২০১৭ সালে ২৩ জানুয়ারি। শেষ জন্মদিনটা ঘরোয়া আয়োজনেই পালন করা হয়। অনেক সহকর্মী উপস্থিত ছিলেন সেদিন।

ad

পাঠকের মতামত