তারা শোনালেন জঙ্গিবাদে জড়ানোর গল্প
জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এ সমস্যার মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি বাবা-মা, পরিবার, সমাজসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করেই জঙ্গিবাদ নির্মূল করা যাবে না, এর জন্য দরকার সচেতনতা। কোনো না কোনো বঞ্চনা বা বৈষম্য থেকে মানুষ জঙ্গিবাদে ধাবিত হচ্ছে। এর কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। হঠাৎ কারো আচার-আচরণে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলে কেন পরিবর্তন হচ্ছে, তা অভিভাবকদের জানতে হবে।
জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। এ ছাড়া জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার গল্পও শোনালেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট আয়োজিত ‘র্যাডিক্যালাইজেশন ও উগ্রবাদ প্রতিরোধ : পরিবার ও সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। সংস্থাটির মিন্টো রোড কার্যালয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত ৫ জঙ্গির পরিবার এবং কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জামিনপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন জঙ্গিও উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে র্যাডিক্যালাইজেশন ও উগ্রবাদের লক্ষণ, র্যাডিক্যালদের সামাজিকীকরণ ও পারিবারিক মিথস্ক্রিয়ার মাত্রা জানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা এবং র্যাডিক্যালাইজেশন প্রতিরোধে সুপারিশ প্রণয়নে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আজিমপুরের জঙ্গি আস্তানায় নিহত জঙ্গি নেতা তানভীর কাদেরীর ছেলে তাহরীম কাদেরী তার বাবা-মায়ের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার পেছনের গল্প তুলে ধরেন।
সম্প্রতি জামিন পাওয়া এক জঙ্গি সেমিনারে বলেন, জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় খুবই জরুরি। তিনি আরও বলেন, জঙ্গিবাদ শুধু আইন প্রয়োগ করে দমন করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি জঙ্গিরা যেসব ভ্রান্ত ধারণা থেকে উগ্রবাদে জড়িয়েছে, সে ভ্রান্ত ধারণা দূর করে তাদের সঠিকপথে নিয়ে আসতে হবে। তাদের পর্যাপ্ত কাউন্সেলিং করতে হবে। কারাগারে গিয়ে নতুন করে জঙ্গিবাদের নানা দিক তাদের মাথায় না ঢোকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। কারাগারেও তাদের ওপর নানা মোটিভেশনাল কার্যক্রম নিতে হবে।
অন্যদিকে জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গিদের উপেক্ষা না করে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সঠিক পথে এগোনোর রাস্তা দেখাতে হবে। অতিসম্প্রতি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠক্রমে জঙ্গিবাদের নেতিবাচক দিক সিলেবাসে রাখা হয়েছে। স্কুলে পাঠদানের সময় শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন কিনা, তা নজর রাখতে হবে, শুধু পাঠ্যক্রমে রাখলেই চলবে না।
সেমিনারে বক্তারা আরও বলেন, স্কুল-কলেজে বেশি করে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ইন্টারনেট জঙ্গিবাদের বিস্তারে এখন বড় প্ল্যাটফর্ম। সন্তানরা মোবাইল ফোনে কী ব্রাউজ করছে, তা বাবা-মাসহ অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে। সন্তানের মধ্যে কোনো রকম পরিবর্তন দেখা গেলে তার কারণ খুঁজে বের করে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গিদের বিশেষ কাউন্সেলিংয়ের ওপরও জোর দেওয়ার কথা বলেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন জঙ্গি তাদের জঙ্গিবাদে জড়ানোর গল্প তুলে ধরেন। অন্যদিকে নিহত জঙ্গিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের সন্তানদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার নানা তথ্য উল্লেখ করেন। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।




