189726

নতুন বছরে বিএনপির নতুন ভাবনা!

খ্রিস্টিয় নববর্ষ ২০১৮ কে নতুনভাবে পেতে চাই দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। গুম, খুন, গ্রেফতার এবং সন্ত্রাসমুক্ত একটি দেশ প্রত্যাশা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ বছরকে দেশের রাজনীতি এবং জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দাবি করে নেতারা বলছেন, নতুন বছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় মানুষের ভোটের অধিকার ফিরে পাবার জন্য এ বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর মানুষ তার স্বাধীন মত প্রকাশ করার অধিকার ফিরে পাবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক ভোটের অধিকার ফিরে পাবে।
খ্রিস্টিয় নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসী এবং বিশ্ববাসী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, পুরনো বছরের ব্যর্থতা, গ্লানি, হতাশাকে ঝেড়ে ফেলে নবউদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায় নববর্ষ। পাশাপাশি অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তৎপর হতে পারলে নতুন বছরটি হয়ে উঠতে পারে সাফল্যময়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বময় সংঘাত আর অশান্তির ঘটনা প্রবাহে নতুন বছরটিকে গণতন্ত্র, শান্তি ও অগ্রগতির বছরে পরিণত করতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে অজস্র রক্তঋণে অর্জিত গণতন্ত্র অপহৃত হয়েছে। গণবিরোধী শক্তি জনগণের সকল অধিকারকে বন্দী করে রেখেছে। এমতাবস্থায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তির মিলিত সংগ্রামে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পূনরুদ্ধার করতে হবে।

বিএনপি প্রধান বলেন, নতুন বছরটি সবার জীবনে বয়ে আনুক বিজয়, অনাবিল সুখ ও শান্তি, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে প্রবাহিত হোক শান্তির অমিয় ধারা, দূর হয়ে যাক সব অন্যায়-উৎপীড়ন, নির্যাতন। বন্ধ হোক হত্যা, গুম, খুন, যুদ্ধ বিগ্রহ ও অমানবিকতাসহ সকল ধরনের দমনমুলক নৃশংসতা-নববর্ষের শুরুতে আমি এ কামনা করছি। হৃত গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

আবার খালেদা জিয়া তার টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ২০১৮-এর উষায় আঁধার দশকের গুম-খুন-গ্রেপ্তার-মিথ্যামামলা-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-অর্থনৈতিক অরাজকতা ও বর্তমানের বিনাভোটের স্বৈরশাসনমুক্ত নির্ভয়, উজ্জীবীত ও সমৃদ্ধ এক বাংলাদেশের দৃঢ় প্রত্যাশা।

অন্যদিকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কালের আবর্তে আরো একটি বছর পেরিয়ে গেল। নানা ঘটনা দুর্ঘটনার কালের সাক্ষী হয়ে বছরটি বিদায় নিল। গত বছরের সকল ব্যর্থতা ও হতাশার গ্লানিকে ঝেড়ে ফেলে এবং সাফল্যকে সঞ্চয় করে আগামী পথ চলার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে। হৃত গণতন্ত্রকে উদ্ধার করার সংগ্রামে সকলকে ব্রতী হতে হবে। আমাদের কর্মে নতুন বছরটি যাতে সাফল্য এবং সমৃদ্ধির বছরে পরিণত হয় সে লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নতুন বছরের প্রত্যাশা গণতন্ত্র পুনরোদ্ধার হবে, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরে পাবে। বর্তমানে সর্বক্ষেত্রে যে অর্থনৈতিক, দ্রব্যমূল্য, ব্যাংকের অবস্থাসহ সকল ক্ষেত্রে যে অব্যবস্থা, নৈরাজ্য তার থেকে আগামী বছর দেশের জনগণ মুক্তি পাবে এই প্রত্যাশা করি।

নতুন বছরের ভাবনা নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নতুন বছরে বর্তমান বছরের গ্লানি, ব্যর্থতা আর হতাশা পিছনে ফেলে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর জন্য আগামী বছরে এগিয়ে চলতে হবে। মানুষের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, ক্রোধ এবং মুক্তিযুদ্ধের অধিকার পুনরায় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে একটি সাফল্যের শিখরে পৌঁছাবে বাংলাদেশ সেই প্রত্যাশা করছি।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগামী বছরের প্রত্যাশা থাকবে এ বছর আমরা যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়েছি সেই সমস্যাগুলোর মুখোমুখি না হতে হয়। নতুন বছরে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ সুখে, নিরাপদে থাকবে। একইসঙ্গে প্রত্যেকেই তাদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারবে। তাদের মৌলিক, নাগরিক অধিকার ভোগ করতে পারবে। ২০১৮ সাল বাংলাদেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন থেকে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এ নির্বাচন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো প্রহসনমূলক হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে সুষ্ঠু, ভোট প্রয়োগের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

ad

পাঠকের মতামত