188970

কবে ফিরবেন ইলিয়াস আলী?

চলতি মাসে ফিরতে শুরু করেছে বিভিন্ন সময় গুম হওয়া মানুষগুলো। এ বছরের ডিসেম্বর মাসে ঘরে ফিরেছে তিনজন গুম হওয়া ব্যক্তি। এদের মধ্যে রয়েছেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোবাশ্বার হাসান সিজার, সাংবাদিক উৎপল দাস এবং বাংলাদেশের কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘুম হওয়া মানুষ ফিরতে শুরু করায় নতুন করে আশা জেগেছে বিগত দিনে গুম হওয়া মানুষের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে। তেমনি আশা জেগেছে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর পরিবারের মধ্যে। তাদের প্রশ্ন কবে ফিরবেন ইলিয়াস আলী?

দীর্ঘ দুই মাস ১০ দিন ‘নিখোঁজ’ থাকার পর গত ১৯ ডিসেম্বর দিনগত রাতে ফিরে এসেছেন সাংবাদিক উৎপল দাস। নারয়ণগঞ্জ ভুলতার আধুরিয়া এলাকার শাহজালাল ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে উৎপলকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে গত ১০ই অক্টোবর মতিঝিল এলাকা থেকে হঠাৎ নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গিয়েছিলেন পূর্ব-পশ্চিমবিডিডটকম এর সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস। নিখোঁজের দিন দুপুরে সর্বশেষ মায়ের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা হয়। এরপর থেকেই মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

গত ৭ই নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্লাস নিয়ে রাজধানীর আইডিবি ভবনে একটি মিটিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য রওনা হয়েছিলেন নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার। কিন্তু মিটিংয়ে আর উপস্থিত হতে পারেননি। সেই থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। কিন্তু গত ২১শে ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর জে-ব্লকের ১২/৩ সড়কের বাসা ২৫নং নিজের বাসায় ফিরে আসেন এই শিক্ষক।

গত ২৭শে আগস্ট ২০ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান নিখোঁজ হন। এদিন রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে সাভারের আমিনবাজার পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের পাশে তার নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর বাড়ি ফেরেননি তিনি। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পায়নি স্বজনরা।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২২শে ডিসেম্বর গুলশান থেকে তকে গ্রেপ্তার করা হয়। নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের ওপর হামলা চেষ্টার অভিযোগে গুলশান থানায় দায়ের হওয়া নাশকতার একটি পুরোনো মামলায় ঢাকা মহানগর আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখায়। তবে এতদিন কোথায়, কিভাবে ছিলেন তিনি তা রহস্যই থেকে গেছে।

উৎপল দাস এবং সিজারের ফেরার প্রক্রিয়া প্রায় একই ধরনের। উভয়কেই কে বা কারা গাড়ি থেকে রাজপথে নামিয়ে দিয়ে যায়। পরে তাঁরা পরিবারের কাছে ফেরেন। গত ১০ বছরে গুম ও নিঁখোজ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যে রাতে রাজধানীর বনানী এলকার ২ নম্বর রোডের সাউথ পয়েন্ট স্কুল ও কলেজের সমানে চালকবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায় ইরিয়াস আলীর গাড়ি। সেই থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। আর পাওয়া যায়নি তার খোঁজ। চলতি মাসে নিখোঁজ হওয়া তিনজন ফিরে আসায় ইলিয়াস আলীর ফিরে আসা নিয়ে নতুন করে আশা জেগেছে বিএনপি ও ইলিয়াস আলীর পরিবারের মাঝে।

গত ২৩ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় নিখোঁজরা ফিরতে শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রশ্ন, তাহলে কাদের তৎপরতায় নিখোঁজ ব্যক্তিরা গুম হয়েছিল? যারা দীর্ঘ নয় বছর ধরে ভীতির শিহরণে গোটা জাতিকে রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে গুমের হিড়িক চালিয়েছে, তারা কারা?’

‘তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী কি আমরা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরু, পারভেজ, সুমন, খালেদ হোসেন সোহেল, কাজী ফরহাদ, মো. জহির, সুজন, সেলিম রেজা পিন্টু, ছাত্রনেতা জাকিরসহ গুম হওয়া কমপক্ষে ৭৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীদের ফিরিয়ে পেতে অপেক্ষা করব?’

রিজভী আরো যোগ করেন, ‘নিখোঁজ কয়েকজনকে ফেরত দেওয়ায় গুম থাকা ব্যক্তিদের পরিবারগুলো কি তাহলে তাদের ফিরে পেতে আশায় বুক বাঁধবে?’

এছাড়াও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২১ ডিসেম্বর এক টুইটে গত ১০ বছরে ৭৫০ জনকে সরকারের বিভিন্ন বাহিনী তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ১৯ বিএনপি কর্মীকে গুম করা হয়েছিল, আজও তাঁরা ফেরেননি। গত ১০ বছরে কমপক্ষে প্রায় ৭৫০ জন গণতন্ত্রকামী কর্মীকে গুম করেছে সরকারি বাহিনী। গুমের শিকার মানুষের সন্তান, পিতা-মাতা, স্ত্রীর কান্নার রোল থামছে না। এর অবসান চাই।’

ad

পাঠকের মতামত