188821

স্ত্রীকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিলেন ‘মৃত’ স্বামী!

বিশ্ব সমাজ বাস্তবতায় ঘর সংসার করতে গেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটু ঝামেলা কিংবা মনোমালিন্য হবেই। কিন্তু সেটা ক্ষণিকের জন্য। পরে এটি ঠিক হয়ে যায়। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে এর ফলে তাদের সম্পর্কেও প্রভাব পড়ে। তবে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে, যা কিনা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানাতে সক্ষম। নিজের স্বামীকে হত্যা করার জন্য খুনি নিয়োগ করেছিলেন স্ত্রী। এদিকে, স্ত্রীকে আবার পুলিশের হাতে তুলে দিতে পাল্টা যা কাণ্ড ঘটিয়েছেন স্বামী, সেটা এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।

এই ঘটনাটি ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, টেক্সাসের বাসিন্দা র‌্যামন সোসা-র (৫০) সঙ্গে তার স্ত্রী মারিয়া’র বিয়ে হয় ২০১০ সালে। বেশ কিছুদিন ধরেই দু’জনের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। এর প্রভাব পড়েছিল তাদের সম্পর্কেও। স্বামী র‌্যামন সোসা ভেবেছিলেন, অচিরেই দু’জনের মধ্যে চলমান ঝামেলা শিগগিরই মিটে যাবে। কিন্তু না, ঘটনা সেখানে আর থেমে থাকেনি।

র‌্যামন কখনো ভাবতেই পারেননি যে তার প্রাণ প্রিয় স্ত্রী তাকে খুন করার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে করে বসে আছেন। এ কারণে তার স্ত্রী গুস্তাভো নামের এক পেশাদার খুনিকে ভাড়া করেছিলেন র‌্যামনকে মারার জন্য। এজন্য স্ত্রী মারিয়া খুনিকে ১৯৬০ ডলার পর্যন্ত দিতে রাজি ছিলেন।

কিন্তু ঘটনাটি মোড় নেই উল্টো দিকে, যখন ভাড়া করা গুস্তাভো বুঝতে পারেন, র‌্যামন তার পূর্বপরিচিত এবং খুব ভাল একজন বন্ধুও বটে। এরপর গুস্তাভো পুরো ঘটনা র‌্যামনকে জানান এবং দুই বন্ধু মিলে মারিয়াকে শিক্ষা দেওয়ার প্ল্যান করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী র‌্যামন গুস্তাভোর সঙ্গে নির্দিষ্ট স্থানে যান এবং মেক আপ-এর সাহায্যে নিজের এমন চেহারা বানান, যেন মনে হয়, তাকে অনেক মারপিট করে খুন করা হয়েছে। এরপর সেই ছবি তুলে গুস্তাভো মারিয়ার কাছে পাঠান।

মারিয়া নিশ্চিন্ত হওয়ার পরে গুস্তাভো পুরো ঘটনাটি পুলিশের কাছে জানান। পরে মারিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ প্রথমে মারিয়াকে তার স্বামী হত্যার অপরাধে গ্রেফতার করলেও পরে তাকে সব ঘটনাই কথাই খুলে বলা হয় এবং তিনি নিজের দোষ স্বীকারও করে নেন মারিয়া।

এ ঘটনায় স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করার জন্য স্ত্রী মারিয়াকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত