থানায় নারীকে উলঙ্গ করে নির্যাতনের অভিযোগ!
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানায় ঝর্ণা বেগম (৪০) নামে এক মহিলাকে উলঙ্গ করে শারীরিক নির্যাতন করার ঘটনায় ১৫দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ৫নং আমলী আদালতের বিচারক হাফিজ আল আসাদ জেলা পুলিশ সুপারকে এ নির্দেশনা দেন।
এর আগে ২১ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিয়াসহ ৬ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন ওই নির্যাতিত মহিলা।
বাদী পক্ষের আইনজীবী আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সরদার জানান, ১১ আগষ্ট দুপুর ১২টার দিকে ধুরাইল বাজারে সিরাজুল ইসলামের দোকানের সামনে থেকে ঝর্ণা বেগমকে ধরে নিয়ে যায় ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া। থানায় নিয়ে তার কাছে ৫লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকী দেয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওইদিন রাত তিনটার দিকে মহিলাকে ওসির রুমে নিয়ে আসে। এ সময় ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়ারেস উদ্দিন সুমন এবং ওসি তাকে উলঙ্গ করে শারীরিক নির্যাতন করে।
তিনি আরও জানান, পরদিন রাতেও তাকে নির্যাতন করা হয়। ১৩ আগষ্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে জেল হাজতে পাটানো হয়। পরদিন জেল-হাজতে বাদিনী অচেতন হয়ে পড়লে কারা হাসপাতালের মাধ্যমে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৮দিন চিকিৎসা শেষে তাকে পুনরায় হাজতে নেয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে পর্যায় ক্রমে হালুয়াঘাট থানায় ৪টি গরু চুরির মামলা দেয়া হয়।
গত ৪ ডিসেম্বর জামিনে মুক্তি পায় ঝর্ণা বেগম। পরে চিকিৎসা শেষে ২১ ডিসেম্বর নির্যাতনের অভিযোগ এনে হালুয়াঘাট থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া, ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়ারেস উদ্দিন সুমনসহ ৬জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। বুধবার নির্যাতনের বিষয়টি আদালত আমলে নিয়ে ১৫দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপারকে।
নির্যাতিত মহিলা ঝর্ণা বেগম জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ওয়ারেস উদ্দিন সুমনের পক্ষে কাজ না করায় আমার এই নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে। আমি দর্জির কাজ করে কোন রকম সংসার চালাই। চেয়ারম্যান আমার দিকে কয়েক বছর ধরে নজর দিয়েছে। আমি তার কথা না শুনাই সে আমাকে পুলিশ দিয়ে ধরে নিয়ে থানায় তিনদিন আটকে রেখে রাতভর শারীরিক নির্যাতন করে। আমার কাছে ৫ লক্ষ টাকাও দাবি করে। এখন আমি অন্যের বাড়িতে প্রাণ ভয়ে আত্মগোপনে আছি। চেয়ারম্যান এবং ওসি আমার পরিবারের লোকজনকেও নানা ভাবে হয়রানী করছে। আমরা এই নির্যাতন থেকে পরিত্রাণ চাই।
নির্যাতিতার বাবা বাবুর হাট কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক শামসুল আলম জানান, আজ আমার পরিবারের উপর এমন নির্যাতন কোন ভাবে মেনে নিতে পারছিনা। আমাদের এখন মরণ ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই। চেয়ারম্যান ও ওসি তারা দুই বন্ধু তাই তাদের সাথে আমরা কোন ভাবেই পারছিনা। মেয়েটাকে থানায় আটকে রেখে এমন নির্যাতন কোন বাবা মা কি সহ্য করতে পারে।
নির্যাতিতার ভাই তাজুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যানের পক্ষে কাজ না করায় আমরা বাড়ি ঘর ছাড়া। আমাদের দেখার মত কেউ নেই। আমার বোনটাকে ওসি এবং চেয়ারম্যান মিলে নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি।
ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়ারেস উদ্দিন সুমন জানান, রাজনৈতিক প্রতি হিংসায় একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মহিলা নির্যাতনের বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
হালুয়াঘাট থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, চুরি মামলায় ঝর্ণা বেগমকে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছিল। তবে তাকে থানায় রেখে নির্যাতনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
জেলা মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, নির্যাতিত মহিলার কথা শুনে আমি মনে করি প্রথমে হালুয়াঘাট থানার ওসিকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। কারণ আইন সবার জন্য সমান। এই ঘটনায় মানবাধিকার চরম ভাবে লঙ্গিত হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
জেলা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম জানান, আদালতের নির্দেশ আমরা এখনও পায়নি। নির্দেশ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না।




