188200

রসিকে জামায়াত কেন লাঙল বেছে নিল?

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ১২ থেকে ১৫ হাজার রিজার্ভ ভোট রয়েছে। কিন্তু, গত ২১ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দলটি তাদের জোটের মূল দল বিএনপির প্রার্থী কাওছার জামান বাবলাকে ভোট দেয়নি।বিষয়টি বিএনপি এবং ২০-দলীয় জোটের রংপুর অঞ্চলের নেতারা যেমন জানেন। কেন্দ্রীয় একাধিক নেতাও স্বীকার করেছেন।

তারা জানান, রসিকে বাবলা যে ৩৫ হাজার ভোট পেয়েছেন, তা শুধুমাত্র বিএনপি সমর্থক ও বাবলার নিজস্ব ভোট। জামায়াত আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, বিএনপি প্রার্থীকে তারা ভোট দেবে না।

যার প্রভাব ২১ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও দেখা গেছে। মোট ১৯৩টি কেন্দ্রে লাঙল প্রতীকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মুস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

এখানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সদ্য সাবেক মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা পেয়েছেন মাত্র ৩৫ হাজার ১৩৬ ভোট।

অবশ্য বাবলা বিগত সিটি নির্বাচনের চেয়ে এবার ভোট বেশি পেয়েছেন। তিনি গতবার পেয়েছিলেন ২১ হাজার ২৩৫ ভোট।

বিএনপি এবং জোট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশ কয়েকটি কারণে জামায়াত দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়েই বিএনপিকে ভোট দেয়নি। কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- জামায়াত বা জোটের সঙ্গে কথা না বলে একক সিদ্ধান্তে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়নের পরও জামায়াতের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা না করা, সর্বশেষ কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ২০-দলীয় জোটের সমন্বয় কমিটি করা হয়েছিল, এবার জোটের কোনো সমন্বয় কমিটি না করা, রংপুরে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের বিপদ-আপদে বিএনপির পাশে না থাকা, এমনকি জেলে কারাবন্দি জামায়াতের রংপুরের শীর্ষ নেতাদের ন্যূনতম সহানুভূতি না দেখানোর ঘটনা এবারের নির্বাচনে জামায়াতকে লাঙলের সমর্থন দিতে বাধ্য করেছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০-দলীয় জোটের এক শীর্ষনেতা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বিএনপি কী মনে করে, কোনো বিষয়ে জামায়াত বা জোট শরিকদের মূল্যায়ন না করে শুধুমাত্র নির্বাচন এলে ভোট পাবে? রসিকে এবার সেই সুযোগ জামায়াত বিএনপিকে নিতে দেয়নি।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘রংপুর নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কার সঙ্গে আলোচনা করেছে? জোটের কোনো সভা কি হয়েছে?’

জোটের এই নেতা বলেন, ‘দেওয়ানবাগীর অনুসারি হিসাবে পরিচিতি পেলেও বিএনপি প্রার্থী বাবলা এখানে ভুল করেছেন। তারই উচিত ছিল ইসলামী বিভিন্ন ভাবধারার দল ও গোষ্ঠীগুলোকে এক করা।’

জানতে চাইলে রংপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামছুজ্জামান সামু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনপি সমর্থক ছাড়া আর কারো ভোট পাওয়া যায়নি। জামায়াত জোটে থাকলেও ভোটে ছিল না। থাকলে তাদের ১২ থেকে ১৫ হাজার রিজার্ভ ভোট কোথায় গেল?’

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা সত্য জামায়াতের সঙ্গে মহানগর বিএনপি কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। তারা লাঙলে ভোট দিয়েছে, এটা এখন অস্বীকার করার উপায় নেই।’

শামছুজ্জামান সামু আরো বলেন, ‘ইসলামী একটি দল হাত পাখা প্রতীক নিয়ে ২৪ হাজার ভোট কিভাবে পায়, সেটাও ভেবে দেখতে হবে। বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই এটা হয়ে থাকতে পারে বা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কিংবা স্থানীয় দায়িত্বশীল কোনো নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘জামায়াত ভোট দিয়েছে কি দেইনি, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলব না। যেহেতু আমরা এখন জোটে আছি এবং জামায়াত জোটের শরিক। তাই আমরা এটা বলতে পারি না যে, তারা আমাদের ভোট দেয়নি।’
সূত্র: পরির্বতন

ad

পাঠকের মতামত