‘অনেক দিন পর দিনের আলো দেখলাম’ কান্না চাপা কণ্ঠে সিজার
নিখোঁজের দেড় মাস পর বাসায় ফিরেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মোবাশ্বের হাসান সিজার। বৃহস্পতিবার রাতে কে বা কারা মোবাশ্বারকে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় নামিয়ে দিয়ে যায়। রাত ১টার দিকে বাসায় ফোন দেয় মোবাশ্বার।
শুক্রবার সকালে ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে নিজ বাসার সামনে মোবাশ্বার হাসান সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।এ সময় তিনি বলেন, একটা জানালা সীল করা অন্ধকার ঘরে তাকে রাখা হয়। ঘরে ময়লা তোশকে তাকে ঘুমাতে দেয়া হয়েছিল। তার পাশেই একটা রুম ছিল যেখানে চার পাঁচজন লোক কথা বলতো।
এ সময় তিনি কান্নাচাপা কণ্ঠে বলেন, অনেকদিন পর দিনের আলো দেখলাম। তিনি বলেন, আসার সময় মুখে গামছা বাধা কয়েকজন ছিল। তাদের মধ্যে কিছু একটা বাগবিতণ্ডা হয়েছে। কিছু একটা হয়েছিল যে, তা আমাকে ছেড়ে দিবে, না মেরে ফেলবে।
ফিরে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, কাল রাতে একটা গাড়ির মধ্যে চোখবাধা অবস্থায় শুইয়ে রাখা হয় প্রায় ১ থেকে ২ ঘন্টা। এরপর বিমানবন্দর এলাকায় আমাকে নামায় দিয়ে বলে, তুই যা গা। পেছনে ফিরে তাকালে মাইরা ফালামু।
এরপর সেখান থেকে একটা সিএনজি ধরে বাসায় ফেরেন তিনি। পথে মধ্যে সিএনজি চালকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে বাড়িতে তার বাবার কাছে ফোন দিয়ে ফিরে আসার ঘটনাটি জানান এবং তার কাছে টাকা নেই উল্লেখ করে টাকা নিয়ে নিচে আসতে বলেন।
মুক্তিপণ বা অন্য কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, মূল বিষয় হলো টাকা পয়সা। তারা একটা সময় টাকার আনতে বলে তারা বলে, তুই অনেক জায়গায় কাজ করোস, টাকা নিয়ে আয়। তাকে আত্মীয় স্বজনের কাছে, যার টাকা আছে তাকে কল দিতে বলতো বলে জানান। এ সময় তার কাছে থাকা ২৭০০ টাকাও নিয়ে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
এ সময় তিনি আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, আসলে যে কিডনাপড হয়েছে সেই রিয়ালাইজ করতে পারে কতটুক আনরিয়েল(অবাস্তব)। হোটেলের ঠাণ্ডা খাবার তাকে দেওয়া হতো।
নিখোঁজের দিন কী ঘটেছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকার আগারগাঁওয়ে একটা বৈঠক শেষে ইউএনডিপি ভবন থেকে বাসায় ফেরার জন্য উবার গাড়ি ডেকেছিলাম। গাড়িতে ওঠার পর ফোনে কাজ করছিলাম। তখন কয়েকজন ব্যক্তি এসে গাড়িটি থামায়। তারা বলে, এটি চোরাই গাড়ি, নামতে হবে। নামার পর আরেকটা গাড়ি খুঁজতে যাব তখন পেছন থেকে চোখে মলম লাগানো হয়। চোখ জ্বলছিল। পেছনে থাকা একটি মাইক্রোবাসে ধাক্কা দিয়ে তোলা হয়। তোলার পর তারা মুখে কিছু একটা চেপে ধরে। জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। প্রথমবারের মতো আমি সেন্সলেস হলাম। এরপর আমার আর কিছু মনে নেই। পরদিন আমার ঘুম ভাঙে। মনে হলো আমি অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছি। ঘুম থেকে ওঠে দেখি আমি একটা কক্ষে বন্দি।
তিনি বলেন, ওরা আসলে মুক্তিপণ চায়। একদিন পরিবারকে ফোনও করেছিল। আমার বন্ধু-বান্ধব শিক্ষক সংবাদকর্মীরা আমার জন্য অনেক কিছু করেছেন। মানববন্ধন করেছেন। এ সময়টা আমার সাইক্লোনের মতো গেছে। আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার ফ্যামিলি নরমাল। যেন সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারি।
একমাত্র ছেলেকে ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন মুবাশ্বারের বাবা মোতাহার হোসেন। তিনি বলেন, আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ। মিডিয়া, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সবার কাছে কৃতজ্ঞ।




