‘নগ্ন হয়ে শুয়ে পড়তেন বাবা, এরপর তেল মালিশ’
ভারতে স্বঘোষিত আরেক ধর্মগুরোর সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। দিল্লির রোহিনিতে অবস্থিত ওই ধর্মগুরুর আশ্রমে অভিযান চালিয়ে প্রচুর ওষুধ ও ইনজেকশনের সিরিঞ্জ পাওয়া গেছে। পুলিশ ধারণা করছে, কিশোরীদের অবৈধ গর্ভপাত করানোর কাজে ওই ওষুধ ও ইনজেকশন ব্যবহার করা হতো।
স্বঘোষিত ওই ধর্মগুরুর নাম বীরেন্দ্র দেব দিক্ষীত। তার আশ্রমে অভিযান চালালেও এখনো তাকে ধরতে পারেনি। তবে আশ্রম থেকে দ্বাররক্ষীসহ এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।ওই স্বষোঘিত ধর্মগুরুর এক নারী ভক্ত বলেন, ‘নগ্ন হয়ে শুয়ে পড়তেন বাবা। তারপর কিশোরীদের তার শরীরে তেল মালিশ করার নির্দেশ দেওয়া হতো।’
অভিযান চালিয়ে পুলিশ দেখে, যেভাবে আশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে, তাতে কিশোরীদের পালানোর কোনো উপায় থাকত না। ছোটছোট ঘর, গোপন কামরা, ঘোরানো সিঁড়িতে রীতিমতো গোলোকধাঁধা করে রাখা হযেছে। তার মধ্যেই ছিল গর্ভ মহল। যেখানেই কুকর্মে লিপ্ত হতেন বাবা।
অভিযান শেষে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, প্রথম দিকে ওই ধর্মগুরুর মতলব কেউ বুঝতে পারেনি। নিজেকে ধর্মগুরু বলেই পরিচয় দিতেন তিনি। আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে আশ্রম খুলে সাধারণ মানুষকে আশ্রমে আনতেন। বহু অভিভাবকই তাঁদের মেয়েদের সেখানে রেখে আসতেন।
পুলিশ জানায়, নারী ভক্তদের গোলাপি শাড়ি আর সাদা ব্লাউজ পরানো হতো। বাবা তাদের নাম দিয়েছিলেন, ‘গোপিনী’ বা ‘গোপিয়া’। কৃষ্ণের যেরকম ১৬ হাজার গোপিনী ছিল, তারও পাশে ওই সংখ্যাক নারী থাকত। সেখানে কিশোরীদের জোর নিয়ে আসা হতো। এরপর একটি লিখিত নিয়ে সেটি পাঠানো হতো স্থানীয় থানায় ও অভিভাবকদের কাছে। তারপর চলত জোরকরে যৌনসম্পর্ক!
পুলিশ বলছে, ছুটির সময় ধর্মশিক্ষা দেওয়ার আশায় অনেক স্থানীয় অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের ওই আশ্রমে রেখে আসতেন। কিন্তু সেই সুযোগে ফাঁদ পেতে ওই কিশোরীদের ভোগ করতেন ওই স্বঘোষিত ধর্মগুরু। তবে বাবার ওই কুকীর্তি ফাঁস করে দিতে কিশোরীদের অভিভাবকরা দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এর ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্বঘোষিত ওই গুরুর অরো অনেক কীর্তি জানতে পারে।
সূত্র: লেটেস্টবিডিনিউজ





