186870

মর্মান্তিক: টাকা-গয়না লুটের জন্যই খুন!

রাজধানীর মহাখালীর আরজতপাড়ায় বাসার ভেতরে খ্রিস্টান বৃদ্ধা মিলড্রেড গোমেজ ওরফে মিলু গোমেজ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তিন তরুণকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল সোমবার পুলিশ বলছে, তিনজনই এই খুনে সরাসরি অংশ নিয়েছে।

তাদের নাম জয়নাল ওরফে জমির (২৫), পারভেজ (২০) ও নাঈম (১৯)। গতকাল মহাখালী এলাকার একটি বস্তি থেকে পারভেজ ও নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জমিরকে।
প্রবীণ দম্পতির বাসা থেকে টাকা ও গহনা লুটের জন্যই পাঁচ দিন আগে জমির এই খুনের পরিকল্পনা করে। সে মাঝেমধ্যে মিলুদের বাসা পরিষ্কারের কাজ করত। জমির সহযোগী হিসেবে অন্য দুজনকে নেয়। তদন্তকারীরা বলছেন, গত শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে বাসার মূল দরজা দিয়ে তিনজন ভেতরে প্রবেশ করে। ওই সময় পরিচিত জমিরকে দেখে মিলু দরজা খুলে দেন। হত্যা ও লুটের পর গৃহকর্মী খুরশি চলে এলে তিনজন দ্রুত খোলা বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ কারণে তারা দরজায় জুতা ও নিহতের লাশের পাশে মোবাইল ফোন ফেলে যায়। তারা মিলুর বাসা থেকে ৩০০ টাকা, হাতের বালা, গলার চেইন ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, লুট হওয়া সব জিনিসই উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি কেনাসহ সব পরিকল্পনার ব্যাপারে জানিয়েছে তিনজন। এ খুনের পেছনে আর কোনো কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার আসামিদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে হত্যায় অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করা গেছে। গতকাল ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে জমির ও মহাখালী থেকে অন্য দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরো বলেন, জমির মাঝেমধ্যেই ২০০-৩০০ টাকার বিনিময়ে মিলু গোমেজের ঘর পরিষ্কার করে দিত। দুই মাস আগে দম্পতি কানাডা থেকে ফেরার পর তার ধারণা হয় যে ওই বাসায় অনেক টাকা ও সোনার গহনা আছে। ঘটনার পাঁচ দিন আগে জমির মহাখালীর একটি বস্তির পারভেজ ও নাঈমকে নিয়ে লুটের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জমির তার দুই সহযোগীকে নিয়ে মিলুদের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দেয়। জমিরকে দেখে বৃদ্ধা মিলু গোমেজ নিজেই দরজা খুলে দেন। জমির বৃদ্ধার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করার পর এক গ্লাস পানি খেতে চায়। বৃদ্ধা এক গ্লাস পানি এনে প্রথমে ডাইনিং টেবিলে রাখেন। এ সময় জমির লুকিয়ে রাখা ছুরি বের করে বৃদ্ধার গলায় ধরে। টাকা-পয়সা না দিলে গলা কেটে ফেলবে—এমন কথা বলতেই বৃদ্ধা চিৎকার করেন। তখন জমির বৃদ্ধার গলায় পোঁচ দেয়। ডিসি আরো বলেন, ঘটনার সময় শোবার ঘর থেকে মিলুর স্বামী অসুস্থ বৃদ্ধ অনিল গোমেজ আসেন। তখন তাঁর মুখমণ্ডল কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে সোফার ওপর বসিয়ে রাখে। অনিলের সামনেই জমির মিলুর গলায় কয়েকবার পোঁচ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তারা ঘরের জিনিসপত্র খুঁজে তেমন কোনো সোনার গহনা ও টাকা পায়নি। মিলুর হাতের দুটি চুরি ও গলার চেইন মিলিয়ে দুই থেকে তিন ভরি সোনার গহনা, ৩০০ টাকা ও মোবাইল ফোনটি নিয়েই তারা বারান্দা দিয়ে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়।

জানতে চাইলে বিপ্লব কুমার সরকার আরো বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা লাল রঙের মোবাইল ফোন ও দরজায় পড়ে থাকা দুই জোড়া জুতা ওদেরই। তাড়াহুড়ো করে যাওয়ার কারণে ওরা সেগুলো ফেলে যায়। আসামিদের কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকারসহ সবই উদ্ধার করা গেছে। ’ ‘এই খুনে আর কেউ জড়িত ছিল না বলে তিনজন বলছে। এর পরও দেখা হবে, অন্য কিছু ছিল কি না,’ যোগ করেন ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার।

ad

পাঠকের মতামত