‘তার সঙ্গে আমার কোনো শারীরিক সম্পর্ক নেই’
জুতায় কামড় ও কান ধরে উঠ-বসেটাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাচুড়িয়া গ্রামে সোমবার বিকেল থেকে অনশন শুরু করেছে নবম শ্রেণির ছাত্রী নিলুফা আক্তার। সে লাউহাটি এম.আজাহার মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও পাশ্ববর্তী স্বপ্ললাড়ো গ্রামের আঃ রশিদ মিয়ার মেয়ে।
অনশনরত ওই ছাত্রী জানান, গত ৬ মাস আগে পাচুড়িয়া গ্রামের মো. ফজল মোল্লার ছেলে মো. হৃদয় মোল্লার সঙ্গে অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম ইমোতে কথা হয় তার। সেখান থেকে ইমো ফেসবুক ও মোবাইলে কথা বলার মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুধু তাই নয় হৃদয় রাতের বেলায় মেয়েটির বাড়িতেও যাতায়াত করতো বলেও জানিয়েছে মেয়েটি।
মেয়েটির দাবি হৃদয় তাকে বিয়ে করবে বলে গত সোমবার তার বাড়িতে চলে আসতে বলে। আর সেই অনুযায়ী সে এসেছে। কিন্তু হৃদয় এখন সব সম্পর্ক অস্বীকার করছে। তাকে তার বাড়ির লোকজন ও সে মেনে নেবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। রাতে ঘরে ঘুমোতে না দিয়ে তাকে রান্না ঘরে থাকতে দেয়া হয়েছিলো। এমনকি তাকে শীতের কাপড় পর্যন্ত দেয়া হয়নি। হৃদয়ের পরিবারের লোকজন তাকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় রেখে আসে। পরে বিয়ের দাবিতে সে আবার হৃদয়ের বাড়িতে অবস্থান নেয়।
এ নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় দু’পক্ষের লোকজন শালিস বৈঠকে বসে কোনো সুরাহা দিতে পারেনি। বরং স্থানীয় মেম্বারের সিদ্ধান্তে অভিযুক্ত হৃদয়কে জুতো কামড় দিয়ে ৩ বার কানে ধরে উঠবস করানো হয়। মেম্বারের এমন সিদ্ধান্ত মানতে না পারায় মেয়ে পক্ষের লোকজন শালিস বৈঠকে থেকে উঠে যান।
হৃদয় প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করার কারণে মঙ্গলবার দুপুরে হৃদয়ের বাড়িতে অবস্থান নেয়া মেয়েটি ঘরে দরজা লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে।
এ নিয়ে হৃদয় মোল্লা বলেন, আমি লাউহাটি আরফান ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। নিলুফার সঙ্গে আমার অনলাইনে কথা হতো। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। আমি তাকে বিয়ে করতে পারবো না। আমি লেখাপড়া শেষ করতে চাই। পরে যা হবার হবে। তার সঙ্গে আমার কোনো শারীরিক সম্পর্ক নেই।
এসময় নিলুফা তার মোবাইলে হৃদয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণ করতে কিছু এসএমএস দেখান। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
হৃদয়ের বাবা ফজল মোল্লা ও তার মা জানান, প্রেমের সম্পর্ক আছে কীনা আমরা জানি না। এছাড়াও ওরা দুজনেই বিয়ের অনুপযোগী। তারপরও এলাকার গণ্যমান্যরা বসে যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা তা মেনে নেব।
নিলুফার বাবা আব্দুর রশিদ মিয়া জানান, ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেছে। আমরা শালিস বৈঠকে যা প্রত্যাশা করেছিলাম তা পাইনি। আমি চাই এর সুষ্ঠু সমাধান। যাতে উভয়েরই সম্মান বাঁচে।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য স্বপন মিয়া জানান, ঘটনাটি শুনে আমি দু’পক্ষের লোকজন নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সমাধান দিতে পারেনি। বিষয়টি চেয়ারম্যান মহোদয়কে অবহিত করেছি। যেহেতু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি তাই আমি তাদের বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। তবে স্থানীয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত দেবে আমি সেভাবেই কাজ করবো। উৎস: জাগোনিউজ।




